ইসরাইল ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাবে প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলো

গাজা উপত্যকায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে দখলদার ইসরাইল এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলো। যৌথ অভিযান সফল করতে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি সংগঠন একজোট হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট (পিএমএফ)। 

বৃহস্পতিবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিএমএফ ফোর্সেসের সাইয়েদ আশ-শুহাদা ব্রিগেডের মহাসচিব আবু আলা আল-ওয়ালে। 

আল-ওয়ালে বলেন, ইসরাইল এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে আগামী দিনগুলোতে আমরা যৌথ সামরিক অভিযান প্রত্যক্ষ করবো। 

তবে প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলো কবে এবং কীভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।  

সাইয়েদ আশ-শুহাদা ব্রিগেডের মহাসচিব আবু আলা আল-ওয়ালে। 

তিনি বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের শুরুতে ইরাক থেকে ইয়েমেনের প্রতি প্রথম আমার সমর্থন ঘোষণার জন্য আমি গর্বিত। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ নেতা সাইয়েদ আবদুল মালিক আল-হুথির নেতৃত্বে আমি একজন স্বেচ্ছাসেবী সৈনিক। 

এসময় ইয়েমেনের পাশাপাশি গাজার জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করে একে কিংবদন্তি বলে অভিহিত করেন তিনি।

সাইয়েদ আশ-শুহাদা ব্রিগেডের মহাসচিব বলেন, ৭ অক্টোবর ছিলো যুদ্ধের একটি নতুন অধ্যায় এবং সেদিন দুর্দান্ত অর্জন হয়েছে। আল-আকসা অপারেশনের আগের দুনিয়া, পরের দুনিয়ার মতো নয়; সবকিছু বদলে গেছে।

তিনি যোগ করেন, আল-আকসা ফ্লাডের লক্ষ্যগুলো অর্জন করা হবে, গাজাকে মুক্ত করা থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি পর্যন্ত। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযানে নামতে পারে বেশি কয়েকটি সংগঠন। তাদের সাথে যোগ দিতে পারে ইরান।  

এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। 

চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইরাক, ইরান, লেবানন, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।