দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে পশ্চিমাদের সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর জন্য মিত্রদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বরাবরই তাতে মিত্রদের অমতের পর এবার সে বিষয়ে অনুমতি দিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে ইউক্রেনের মিত্ররা।
শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও অনুমান সংশ্লিষ্টদের। খবর বিবিসি’র।
ইউক্রেন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালাতে পারলে মস্কোর আক্রমণের সক্ষমতা কমে আসবে বলে বিশ্বাস ইউক্রেনপন্থী সামরিক বিশ্লেষকদের। আর তাই বারবারই পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সেজন্য অনুমতি প্রার্থনা করে আসছেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনকে মার্কিন এটিএসিএমএস, ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডোর মতো দূরপাল্লার পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র আগেই সরবরাহ করেছে পশ্চিমারা। কিন্তু এসব দূরপাল্লার অস্ত্র ইউক্রেন শুধু তার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতেই ব্যবহার করতে পারবে, এমন শর্ত আরোপ করা রয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।
গত বুধবারই কিয়েভ সফরকালে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। তাদের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘দূরপাল্লার গোলাবারুদের পাশাপাশি অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনে ফিরেই আমি প্রেসিডেন্টকে সবকিছু ব্রিফ করব।’ খবর রয়টার্স’র।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ল্যামি বলেছেন, ‘সবকিছুই আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধে জয়লাভ করতে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জামের মতো ইস্যু নিয়েও পর্যালোচনা হয়েছে।’ খবর রয়টার্স’র।
ল্যামি ও ব্লিঙ্কেনের সাথে বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আগে এক প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালাতে মার্কিন ও ব্রিটিশ মিত্রদের সবুজ সংকেত পাওয়া নির্ভর করবে তাদের ‘ইতিবাচক মানসিকতা’র ওপর। ‘আমরা অন্তত কিছু দৃঢ় সিদ্ধান্ত আশা করতে পারি এবং আমাদের জন্য এখন এটি খুব প্রয়োজন’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খবর বিবিসি’র।

এদিকে, কিয়েভ সফর শেষে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন পোল্যান্ডে ফিরে এসেছেন। তার আগে, ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের দেওয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে শক্তিশালী ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর দ্য গার্ডিয়ান’র।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস নিজেদের মধ্যে (প্রাইভেট) এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার অনুমতির বিষয়ে এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান’র।

তবে, শুক্রবার ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠক থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। খবর দ্য গার্ডিয়ান’র।
ইতোমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করেছে। ফলে, কিয়েভ তার নিজের বলে দাবি করা ভূখণ্ড ক্রিমিয়া থেকে জাপোরিজ্জিয়া, খেরসন, দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক পর্যন্ত হামলা চালাতে পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করতে পারছে। খবর পার্স টুডে’র।
এদিকে, এসব ঘটনাপ্রবাহের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালাতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাহলে এর অর্থ হবে, ন্যাটো সামরিক জোট রাশিয়ার সঙ্গে ‘যুদ্ধে লিপ্ত’ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, এর ফলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে। এর অর্থ হবে যে, ন্যাটো জোট অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করছে। যদি সত্যিই এমনটা ঘটে তাহলে এই সংঘাতের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।
জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, নতুন সহায়তার আশ্বাস