যেসব শহরে চলে না গাড়ি, নেই কোন যানজট

অনেক বছর ধরে রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে বেশি পরিচিতি যানজটের শহর হিসাবে। যানজট এখন নগরবাসীর রোজকার দুর্ভোগ। রাস্তায় বেরিয়ে অধৈর্য হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। আধা ঘণ্টার রাস্তা যেতেই সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘন্টা। কখনও কখনও তার চেয়েও বেশি।

ঢাকার অত্যধিক ট্রাফিক যানজটের অবস্থা এখন এতোই করুণ যে, ধাক্কা লাগার উপক্রম গাড়িতে গাড়িতে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যত বাড়ছে গাড়ি, ততই বাড়ছে দূষণ। কিন্তু ব্যস্ততার জীবনে, মানুষ দ্রুতগতির সঙ্গে পাল্লা দিতে স্বাভাবিক ভাবেই বেছে নিচ্ছে গাড়ি কিংবা গণপরিহন।

সুইজারল্যান্ডের জেরম্যাট শহরে চলে না কোন গাড়ি

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে গাড়ির পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণ। প্রতি ৫.৫ জনে একটি করে গাড়ি রয়েছে, বা ১০০০ জনর জন্য রয়েছে ১৮২টি গাড়ি। একটি ব্যক্তিগত গাড়ি প্রতিবছর প্রায় ৪.৬ মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করে। মোট গাড়ি সংখ্যা দিয়ে হিসাবে করলে, সেটি হবে আঁতকে ওঠার মতো।

শুধু ঢাকা কেন, নিউইয়র্ক, মেক্সিকো সিটি, মুম্বাইসহ বিশ্বের অনেক শহরেই জীবনযাত্রা থেমে যায় যানজটে। এসব কারণেই ভাবনায় এসেছে গাড়িবিহীন শহর হলে কেমন হয়? অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, এমন অনেক শহর আছে, যেখানে কোন গাড়ি নেই, নেই কোনো যানজট। তাহলে মানুষজন চলাফেরা করছে কি করে?

নেদারল্যান্ডসের গিয়েথর্নে রাস্তার পরিবর্তে আছে সরু খাল

যেসব শহরে গাড়ি নেই, নেই হর্নের শব্দ, জ্যাম নেই, নেই দূষণ, তাদের মধ্যে প্রথমে আসবে সুইজারল্যান্ডের জেরম্যাট শহরের কথা। ম্যাটারহর্নের পাদদেশে অবস্থিত। সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারে হয়েছে কঠিন সব নিয়ম। আর রয়েছে ঘোড়ায় টানা গরু, ই-ট্যাক্সি, মাউন্টেন বাইক। বাকি পথ হেঁটেই ঘুরতে হয়।

এছাড়াও কেনিয়ার লামু রয়েছে তালিকায়। ওই শহরে নিষিদ্ধ গাড়ি। তালিকায় রয়েছে বেলজিয়ামের ঘেন্ট, গ্রিসের হাইড্রা, নেদারল্যান্ডসের গিয়েথর্ন, মেক্সিকোর ইয়েলাপা। গাড়ির শব্দ আর ধোঁয়া দূষণ ছাড়া দিন কেমন হতে পারে নগরবাসীদের সে আনন্দ দিতেই এসব শহরকে তৈরি করা হয়েছে।

মেক্সিকোর ইয়েলাপা শহরে গাড়ি চলার কোন রাস্তাই নেই

নেদারল্যান্ডসের গিয়েথর্নে রাস্তার পরিবর্তে আছে সরু খাল। একে উত্তরের ভেনিস বলা হয়। সেখানে কোন গাড়ির হর্ণ, শব্দ বা ধোঁয়া নেই। প্রচুর পর্যটক আসে এখানে এবং নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়।

আবার গ্রিসের সারোনিক এবং আরগেলিকস গালফের মধ্যে হাইড্রা নামের একটি দ্বীপ রয়েছে। এটা হাইড্রা পোর্টের মূল শহর। এ শহরে রয়েছে পাহাড়, সমুদ্র আর পাহাড়ের নিচে বাড়ি। সেখানেও কোন গাড়ি নেই।

কেনিয়ার লামু শহরে নিষিদ্ধ গাড়ি

ইতালির ভেনিস গাড়িবিহীন শহরের মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত। এটি এমনিতেই একটি সুপরিচিত এবং বিখ্যাত শহর। এখানে পঞ্চম শতাব্দিতে রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল। শহরটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে গাড়ির প্রয়োজন হয় না। নৌকা করে যে কোন জায়গায় যাওয়া যায়, রয়েছে ঘোড়ার গাড়িও।

জার্মানির ছোট একটি শহরের নাম ভাতবান। সেখানে কোন গাড়ি নেই। এ শহরটি এমন ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে কোন গাড়ি চলাচল করতে না পারে। পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে এটি বেশ পরিচিতি পেয়েছে। খুব পরিকল্পনা করেই গড়ে তোলা হয়েছে শহরটি।

আমেরিকার মিশিগান রাজ্যের ম্যাকিনাক আইল্যান্ডে ৫০০ জনের মত মানুষের বসবাস। দ্বীপটিতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় শুধুমাত্র পর্যটকের কারণে। তাদের জন্য রয়েছে হোটেল ও মোটেল। তবে এ শহর ঢোকার পথে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে সতর্কবাণী গাড়ি ঢোকা নিষেধ, অমান্য করলেই বহিস্কার অবধারিত।

গ্রিসের হাইড্রা দ্বীপ সমুদ্র আর পাহাড়ের নিচেই বাড়ি, তাই নেই সখনকগাড়ি

নিউইয়র্কে রয়েছে ফায়ার আইল্যান্ড। ছোট্ট এই দ্বীপের এমন ‘আগুন’ নাম কোথা থেকে এসেছে সেটি কেউ জানে না। তবে এই শহরে বিরাজ করে এক অভাবনীয় শান্তি। এখানে গাড়ির কোন ধোঁয়া, শব্দ নেই। মূলত এটি একটি ছোট দ্বীপ শহর তাই চলাচলের জন্য কোন গাড়ির প্রয়োজন হয় না।

ব্রাজিলের উপকূলীয় একটি শহর পাকুয়েতা। সেখানে মূলত তামোইয়ো ইন্ডিয়ান উপজাতি বাস করে। তাদের শহরে কোন গাড়ি মিলবে না। আবার স্পেনের ছোট্ট শহর পন্টেভেদ্রাতে ১৯ বছর ধরে গাড়ি নিষিদ্ধ। শহরের বাসিন্দারা হেঁটে বা বাইসাইকেলে গন্তব্যে পৌঁছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া এখানে গাড়ি চলাচল করে না।