গাজা গণহত্যাকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত চলছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর প্রতি সংহতি জানিয়ে দখলদার ইসরাইলের এইলাত সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা।
ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট (পিএমইউ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তারা এইলাত সমুদ্র বন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পরা ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর এইলাত বন্দর এলাকায় ধোঁয়া উড়ছে। তবে এ হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এইলাত সমুদ্রবন্দরে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইরাকি যোদ্ধারা।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে তেহরানভিত্তিক পার্সটুডে বলছে, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানা না গেলেও ড্রোন হামলায় দুইজন জায়নবাদী বসতি স্থাপনকারী গুরুতর আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরাকি যোদ্ধারা দুটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করে; তবে একটি ড্রোন আঘাত হানতে পারলেও অন্যটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে। দখলদার সেনারা বলেছে, ইরাকের হুমকি সম্পর্কে তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়াও গতকাল বুধবার ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারা একদিনেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাঁচটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এরমধ্যে সাপির বিমানঘাঁটিসহ দুটি স্থাপনায় সরাসরি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় তারা।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
গেলো দশ মাসে গাজার ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে নানা লক্ষ্যবস্তুতে অসংখ্য হামলা চালিয়েছে ইরাকি যোদ্ধারা।
তারা বলছে, গাজায় গণহত্যা বন্ধ না হলে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা চলতে থাকবে।