ইসরাইল ভীতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে আরবরা

ইরানে তিন স্থানে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মহা আয়োজন করে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধের মুখে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাবার পর সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে ২০ অক্টোবর রাতেই কঠিন প্রতিশোধ নেবে তেহরান। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি ইসরাইলের হামলা নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার পর তাৎক্ষণিক কোন প্রতিশোধ বা পাল্টা পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে আসে দেশটি।

সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতির পথে আগ্রসর হয় ইরান। ইরানের মাটিতে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি লেখেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে অধিবেশন আহবান করার কথা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করাকে অপরাধী কর্মকাণ্ড বলেও নালিশ করেছেন তিনি।

তবে আরাগচি বলেন, যদিও এমন কোন আশা নেই যে নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য কিছু দেশের উপস্থিতি থাকবে বা নিরাপত্তা পরিষদ থেকে এমন কোনও ফল বেরিয়ে আসবে যা উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে। এরপরও ইহুদিবাদী শাসকদের অপরাধ প্রতিরোধে আমরা এটি অনুসরণ করছি। বিশ্লেষকরা ইরানের এমন পদক্ষেপকে অবশ্য দেখছেন ভিন্নভাবে। তাদের মতে সময় নিচ্ছে তেহরান।

কূটনৈতিক তৎপরতা ধরে রাখার পাশাপাশি ইরান তাদের মিসাইল সক্ষমতা বাড়ানো অব্যাহত রাখতে। সেই সঙ্গে দেশটি আশা করছে, আরব দেশগুলো ইসরাইল ভীতি কাটিয়ে উঠবে। এখন পর্যন্ত আরব দেশগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতার উপর সম্পূর্ণভাবে আস্থাশীল হয়ে উঠতে পারেনি। আবার ইরান হামলা থেকে তারা ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার ধারণা পেয়ে গেছে।

জেরুজালেম পোস্ট বলছে, যুদ্ধবিমানগুলো দুই হাজার কিলোমিটার উড়ে গেলেও ইসরাইলের পক্ষে ইরান আক্রমণ করে বিশেষ কিছু অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যায়বহুল হবে। তাছাড়া ইরাকের আকাশ থেকে ইসরাইলের ‘এয়ার টু সারফেস’ মিসাইল ব্যবহার করা থেকে আরবরা বুঝে গিয়েছে যে, ইরানের আকাশে যাওয়ার মতো সাহস ইসরাইলের বিমান বাহিনী দেখাতে পারেনি।

ইরানের ক্ষতি যাই হোক না কেন, আরব দেশগুলোতে একটা মাঝারি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের হামলা চালিয়ে ইসরাইল তাদের সামরিক শক্তির দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করে দিয়েছে। এটি সামনের সময়ে আরব দেশগুলো দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে সহায়তা করতে। ইসরাইল নিয়ে জুজুর ভয় কাটিয়ে উঠবে আরবরা। যা ইরানের জন্য বিশাল আর্শীবাদ বয়ে আনবে।

বিশ্লেষকরা নিশ্চিত, ইরান অবশ্যই অবশ্যই তৃতীয়বার ইসরাইল আক্রমণ করবে এবং এবারের হামলা আরো বিধ্বংসী হতে হবে। এরপরই আরব দেশগুলোতে মনোভাবের পরিবর্তন শুরু হতে থাকবে। একই সঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত প্রতিরোধ অক্ষগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ফলে শুধুমাত্র আমেরিকার সহায়তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিস্তৃত যুদ্ধ চালিয়ে নেয়া ইসরাইলের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ইসরাইলি বিমান বাহিনী শক্তিশালী হলেও, ইরানের ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে তেমন প্রভাব রাখতে পারবে না, সেটার পরীক্ষা তেল আবিবের দ্বিতীয় দফার হামলায় হয়ে গেছে। এবার  ইরানের পালা। আর তৃতীয় দফার পর থেকে ইরান নিয়মিত রকেট হামলা চালাবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভার পরই তৃতীয় দফা আক্রমণ করবে ইরান।

দুই শত্রু তখন সরাসরি সংঘর্ষে নেমে পড়বে। আঞ্চলিক এই সংঘর্ষ ক্রমে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। আর আরবরা যে কোন ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে এই অঞ্চলের সংঘাত বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলবে। পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বদলাতে শুরু করবে। অর্থ ও বাণিজ্য ব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়াতে পারে রাশিয়া ও চীনও।