ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূলের সন্ত্রাসী পরিকল্পনায় গাজার উপত্যকায় গত এক ধরে যুদ্ধে কোন সফলতা অর্জন করতে না পারলেও মধ্যপ্রাচ্যেজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলে ইসরাইল। ইরানের সাথেও যে কোন মূহুর্তেই সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে পারে তেল আবিব। তবে সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের দেশেই একঘরে হয়ে পড়ছেন নেতানিয়াহু।
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই একের পর এক দেশের সাথে সংঘর্ষে জড়ানো নিয়ে এবার তুমুল বিরোধে জড়িয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্ত। নেতানিয়াহুর নির্দেশে গেল এক বছরে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনে আগ্রাসন বাড়িয়েছে ইসরাইল। ইসলামি প্রতিরোধ দলগুলোর সাথে অপরিকল্পিত এসব যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
প্রথম দিকে সেন্সরশিপের মাধ্যমে নিহত সেনাদের তথ্য গোপন করা হলেও এখন আর তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না নেতানিয়াহু সরকার। হিজবুল্লাহ, হুথিসহ ইসলামি প্রতিরোধ দলগুলোর সাঁড়াশি হামলায় সীমান্ত থেকে শুরু করে নিজের দেশের সেনাঘাঁটিতেও নিহত হওয়া সেনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পরিস্থিতি এমনই যে, লেবাননে স্থলযুদ্ধে থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন ইসরাইলের কমানন্ডো সেনারাও।

বহুমুখী এই যুদ্ধ নিয়ে দেশজুড়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অসন্তোষ তীব্র হয়ে উঠেছে। এমনকি নেতানিয়াহুর নির্দেশে গাজায় গণহত্যা চালানো সেনারা নিজ দেশে ফিরে আত্মহত্যা করছে। কিছুদিন আগে হাইফার কাছে সেনাঘাঁটিতে গোলানি ব্রিগেডের সেনাদের প্রাণ হারানোর ঘটনায়, নিরাপত্তা দিতে না পারায় যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করে ইসরাইলি সেনারা। সেই ছবি এখন ভাইরাল।
সীমান্তে হতাহত হয়ে প্রতিদিনই অগুণিত সেনাকে হেলিকপ্টারে করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তাদের বদলে নতুন সেনা পাঠানো নিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। এমন পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধ করতে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের নেতাদের সীমান্তে সম্মুখ সারিতে পাঠানোর দাবিও তুলেছে অনেক সেনা। এতেই বোঝা যাচ্ছে অসন্তোষের মাত্রা কতটা ভয়াবহ।
শুধু সেনাদের মধ্যেই নয়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে ইসরাইলের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তাও। ছুরি, বন্দুক হামলার মতো একের পর এক সন্ত্রাসী আক্রমণে ইসরাইলের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে চরম অরাজকতা। প্রতিপক্ষের হামলার ভয় সারাক্ষণই সাইরেন বাজছে হাইফা, গ্যালিলি, তেল আবিবসহ পুরো ইসরাইলজুড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ইসরাইলবিরোধী মনোভাবে ইহুদিদের উপর হামলার ঘটনা বাড়ছে।

দেশ ও দেশের বাইরে ইসরাইলিদের এমন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এবার নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী গালান্ত সরাসরি বিরোধে জড়িয়েছেন। সাধারণের সম্মুখে তাদের এই বিরোধিতায় জড়ানোর খবর উঠে এসেছে টাইমস অব ইসরাইল, জেরুজালেম পোস্ট, আল জাজিরার মতো গণমাধ্যমগুলোতে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, কোন সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই একের পর এক যুদ্ধ বাঁধাচ্ছেন নেতানিয়াহু।
এমনকি ইরানে হামলার আগে এই নিয়ে নেতানিয়াহুর কাছে চিঠিও পাঠান ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তবে উল্টো গালান্তের চিঠির ভাষাকেই বিভ্রান্তিকর বলে জবাব দেন নেতানিয়াহু। এদিকে, আল জাজিরা জানিয়েছে- গাজা ও লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি ইসরাইলিদের ফেরত আনতে চাপ বাড়াচ্ছেন গালান্ত। নিজের বার্তায়ও একাধিকবার যুদ্ধবন্ধে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো বলছে, এখনই যুদ্ধ থেকে সরে আসার কোন ইচ্ছে নেই নেতানিয়াহুর। এমনকি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আলোচনার জন্য দোহায় পাঠানো প্রতিনিধিদের সেই এখতিয়ারও দেননি তিনি। উল্টো নিরাপত্তামন্ত্রী বেন জিভিরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা গালান্তের বদলে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের কাজ শুরু করেছেন বলে জানাচ্ছে ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো।
