নির্বাচনে জিতে হোয়াইট হাউজে পা রাখার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ চান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকাশ্যে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে এলেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য অনেক আগেই সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়ে বার্তা পাঠান ট্রাম্প। টাইমস অব ইসরাইলসহ পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে উঠে এসেছে এই খবর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণার শুরু থেকেই ট্রাম্প বলে এসেছেন, একমাত্র তিনি ক্ষমতায় এলেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব।
টাইমস অব ইসরাইল বলছে, গেল জুলাইয়ে ফ্লোরিডার বাসভবন মার ই লাগোতে ট্রাম্পের সাথে দেখা করেন নেতানিয়াহু। তখনই নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন ট্রাম্প। ইসরাইল ও মার্কিন সূত্রগুলো বলছে- আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। জয়ের পর জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগেই যুদ্ধের অবসান চান সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে ট্রাম্প নাকি বলেছেন, গাজায় বেসামরিক লোকদের উপর যে ধ্বংসযজ্ঞ ইসরাইল শুরু করেছে তা বিশ্বের জন্য খুব খারাপ। আর, এতে যুক্তরাষ্ট্রের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নভেম্বরের ৫ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি এক সপ্তাহেরও কম। এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন বাইডেন আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় শেষের দিকে হলেও এখনও অভ্যন্তরীণ বিষয়ের চেয়ে দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা বরাবরই ইসরাইল বলতে অন্ধ। প্রশাসনে বদল এলেও ইসরাইলের প্রতি নীতিতে তাদের সমর্থনে কোন পরিবর্তন আসে না। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইসরাইলের দানবীয় আগ্রাসন আর মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে প্রচারে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন কমলা ও ট্রাম্প উভয়ই। এক বছর ধরে ফিলিস্তিনের উপর নির্বিচার গণহত্যায় মার্কিনীরা ইসরাইলের একনিষ্ঠ সমর্থন থেকে সরে এসেছেন। দেশটির বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে শহরগুলোতে প্রায়ই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইহুদিদের পাশাপাশি মুসলিম অভিবাসীদেরও বড় একটা প্রভাব রয়েছে। আর মুসলিম ও ইসরাইল বিরোধী ভোটারদের দলে টানতে কমলা হ্যারিস ও ট্রাম্প প্রতিদিনই নিত্য নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে দায়ী করে ট্রাম্প বলছেন- তিনি ক্ষমতায় না আসলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। এমনকি বুধবার লেবাননের মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে দেয়া এক বার্তায় তাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন রিপাবলিকান এই প্রার্থী। আবার তিনি জয় না পেলে ইসরাইল ধ্বংস হয়ে যাবে বলে ইহুদি ভোটারদেরও মন জয়ের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।