নির্বাচনের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির প্রধান দুই দলের প্রার্থী ও তাদের প্রচার শিবিরের দৌঁড়ঝাপ ততো বাড়ছে। হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দৌঁড়ে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন, সে বিষয়ে নজরে রয়েছে মার্কিন ভোটারসহ পুরো বিশ্বের। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, গেলো কয়েকদিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের মধ্যে ব্যবধান আরও কমে আসছে।
শুরু থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনের মাঠে নামেন কমলা হ্যারিসও। নির্বাচনের প্রচারের প্রথম দিকে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিলেন কমলা। তবে আগস্টের শেষে এসে কিছুটা এগিয়ে যান তিনি। এবিসি নিউজের জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন হ্যারিস, বিপরীতে এক শতাংশ কম সমর্থন রয়েছে ট্রাম্পের।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। কিন্তু, প্রায় সব সময় একই দলকে ভোট দেয় কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা। আবার এমন কিছু রাজ্য আছে যেখানে দুই দলের প্রার্থীদেরই জয় পাওয়ার সুযোগ আছে। এগুলো এমন জায়গা, যেখানে কেউ এগিয়ে থাকলে নির্বাচনে জয়ী হবে এবং পিছিয়ে পড়লে হেরে যাবে। এই রাজ্যগুলো যুদ্ধক্ষেত্র বা সুইং স্টেট হিসাবে পরিচিত।
আমেরিকার নির্বাচনে রিপাবলিকান দুর্গ বলে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোকে বলা হয় রেড স্টেট বা লাল রাজ্য আর ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য পাওয়া স্টেটগুলোকে বলা হয় ব্লু স্টেট বা নীল রাজ্য। এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সুইং স্টেট খ্যাত এমন ৭টি রাজ্যকে মূল লড়াইয়ের কেন্দ্র ভাবা হচ্ছে যেগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলোতে কেউ এগিয়ে বা পিছিয়েও নেই।

অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাডা ও নর্থ ক্যারোলিনায় আগস্টের শুরু থেকে বেশ কয়েকবার লিড হাতবদল হলেও এ মুহূর্তে সবগুলোতেই ট্রাম্প সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্য তিনটি রাজ্য মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনে কমলা হ্যারিস গত আগস্টের শুরু থেকে ২ বা ৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক জনমত জরিপে পেনসিলভানিয়ায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
তবে এই সাতটি রাজ্যের মধ্যে পেনসেলভিনিয়ার আলাদা গুরিত্ব রয়েছে। কারন ইলোকটোরাল ভোট অন্য ছয়টি সুইং স্টেটের চাইতে এখানে বেশি। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের আগে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি ছিলো। তবে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেগুলো রিপাবলিকানদের পক্ষে চলে যায়।
তবে পরবর্তীতে বাইডেন ২০২০ সালে সেগুলোতে জয়ী হন এবং কমলা হ্যারিস যদি এই রাজ্যগুলোতে নিজের প্রতিনিধিত্ব তৈরি করতে পারেন তাহলে নির্বাচনে তারই জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন জরিপ সংস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয়ভাবে এই নির্বাচনের গড় তৈরি করা হয়। ক্ষুদেবার্তা, ফোনকল বিভিন্ন মাধ্যমে এক ধরনের জরিপ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এসব জরিপের ক্ষেত্রে দেখা হয় কতজন ভোটার এই জরিপে অংশ নিয়েছে, কখন জরিপটি করা হয়েছে কিংবা কিভাবে এই জরিপ সম্পন্ন হয়েছে।
