ভারতের মণিপুর রাজ্যে দুই মন্ত্রী ও তিন বিধায়কের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা। জিরিবামের ত্রাণ শিবির থেকে অপহৃত তিন নারী ও তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই জনগোষ্ঠী, তার জেরেই মন্ত্রী ও বিধায়কদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
এর আগে গত সোমবার মনিপুরের জিরিবাম থেকে ওই ছয়জন নিখোঁজ হন। মেইতেই সম্প্রদায়ের অভিযোগ, কুকি সম্প্রদায়ের সশস্ত্র জঙ্গিরা ওই ছয়জনকে অপহরণ করেছিলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও তেহরানভিত্তিক পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দুপুরে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও তিন বিধায়কের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা।
উত্তেজিত জনতার একটি অংশ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সাপাম রঞ্জনের লামফেলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন এক সিনিয়র কর্মকর্তা।
অন্যদিকে ইম্ফালের পশ্চিম বিভাগের সাগোলবান্দে বিজেপির বিধায়ক আরকে ইমোর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। আরকে ইমো মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিংয়ের মেয়ের জামাই।
এছাড়াও বিক্ষোভকারীরা স্বতন্ত্র বিধায়ক সাপাম নিশিকান্ত সিংয়ের মালিকানাধীন একটি পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর চালায়।
পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায় তার জন্য তড়িঘড়ি রাজ্যের সাত জেলায় কার্ফু জারি করেছে এন বীরেন সিংয়ের সরকার। সেই সঙ্গে গুজব ছড়ানো রুখতে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালের মে মাসে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কুকি সম্প্রদায়ের সংঘাত শুরু হয়। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
শেষ কয়েক মাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাজ্যটি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।