ইসরাইলি ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর নজিরবিহীন হামলা

ইসরাইলের ভেতরে ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। প্রথমবারের মতো ইসরাইলের আশদোদ নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। এরসঙ্গে তেল আবিবের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।

সোমবার জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, এটাই চলমান সংঘাতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেবাননের এই সশস্ত্র সংগঠনটির সবচেয়ে বড় হামলা। আর, এসব হামলায় ১১ ইসরাইলি আহত হবার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, প্রথমবার তারা ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে আশদোদ নৌঘাঁটিতে স্ট্রাইক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। পরে সংগঠনটি আবার জানায়, অত্যাধুনিক মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করে তেল আবিবের একটি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়েছে।

এছাড়া, তেল আবিবের উপকণ্ঠে গ্লিলট সেনাবাহিনী গোয়েন্দা ঘাঁটিতে মিসাইল ছুড়েছে হিজবুল্লাহ। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রেডিও জানিয়েছে, লেবানন থেকে ৩৪০টি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। আইডিএফ দাবি করছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে।

israel1

লেবাননের বৈরুতে দখলদার ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় ২৯ জন নিহতের পরদিনই তেল আবিবে এ হামলা চালাল হিজবুল্লাহ। দিনভর এসব হামলার কারণে প্রায় ৫০০ বার আকাশ হামলার সতর্কতা সূচক সাইরেন বেজে উঠে। কয়েকটি মিসাইল ও ড্রেন গুরুত্বপূর্ণ শহর তেল আবিবে আঘাত হেনেছে।

আইডিএফের দাবি, মিসাইলগুলো ‘প্রজেক্টাইল রকেট’। অর্থাৎ, নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে এমন রকেট। তবে তাদের আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। কিছু রকেট মধ্য ইসরাইলে আঘাত হানে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভেঙে পড়ে।

আকাশ হামলার সতর্কতামূলক ব্যবস্থার ফলে আগেই বেশিরভাগ বাসিন্দা বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে চলে যায়। যার কারণে কারো প্রাণহানি হয়নি। হিজবুল্লাহর এই হামলায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। রকেটের শার্পনেলে তারা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পেতাহ তিকভায় বেশ কয়েকজন আহত হন। হাইফা শহরে একটি পাঁচ তলা ভবনে রকেট আঘাত হানলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। কিফার ব্লামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নাহারিয়া ও মোশাভ রিনাতিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় রকেট আঘাত হানে।

হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে বৈরুতে একটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় আইডিএফ। তাদের দাবি, এখান থেকেই হাইফার দিকে রকেট হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া বৈরুতের একটি পাঁচ তলা ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ২০ থেকে ২৫ জনের মতো নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত সপ্তাহে বৈরুতে অন্তত চারটি ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল। এতে মোহাম্মদ আফিফ নামের হিজবুল্লাহর একজন মুখপাত্র নিহত হন। এরপর গত বুধবার এক বক্তৃতায় হিজবুল্লাহপ্রধান নাইম কাসেম বলেন, বৈরুতে ওই হামলার জবাব তেল আবিবে হামলার চালানো মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে।

israel2

গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে হামলা জোরদার করে ইসরাইল। প্রথমে আকাশপথে হামলা হলেও পরে দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করেন ইসরাইলের সেনারা। ইসরাইলি বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তখন থেকে হিজবুল্লাহ একদিনে সবচেয়ে বেশি ৩৫০টি মিসাইল চালিয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর।

ইসরাইল-হিজবুল্লাহর দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো। ২০০৬ সালে একবার যুদ্ধেও জড়িয়েছে তারা। গেলো বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে দু’পক্ষ। প্রথমে তা সীমিত পর্যায়ে থাকলেও গত সেপ্টেম্বর থেকে তীব্র আকার ধারণ করে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের হামলায় দেশটিতে কমপক্ষে তিন হাজার ৬৭০ জন নিহত হয়েছেন।