এই সংবাদে একটি সংশোধনী রয়েছে। খবরের শেষে দ্রষ্টব্য।
ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তিসহ সিলেট আওয়ামী লীগের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পুলিশ।
রোবার দুপুরে কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে কলকাতা পুলিশের সহায়তা নিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে শিলং পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তার অন্য দুই আওয়ামী লীগ নেতা হলেন- সিলেট মহানগর যুবলীগের সহ সভাপতি রিপন ও সদস্য জুয়েল।
এছাড়া এই মামলায় আরও দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফসার আজিজ ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাশ মিঠু। শিলং পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতারা সিলেট থেকে পালিয়ে দেশটির মেঘালয় রাজ্যে শিলংয়ে অবস্থান করার সময় সেখানে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার নারী বাদী হয়ে শিলং থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরো দুজন পলাতক রয়েছেন।
দেশ ছেড়ে পালানোর পর শিলংয়ে ছিলেন নাসির উদ্দিন খানসহ ছয়জন ওঠেন শিলং পুলিশ বাজার থেকে খানিক দূরে একটি ফ্ল্যাটে। শিলং পুলিশ সূত্রের খবর, আওয়ামী লীগের নেতারা সিলেট থেকে পালিয়ে শিলং আসে। সেখানে গা ঢাকা দেওয়ার সময় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
আরও জানা গেছে, দেশ ছেড়ে পালানোর পর শিলংয়ে ছিলেন নাসির উদ্দিন খানসহ ছয়জন ওঠেন শিলং বাজার থেকে খানিক দূরে একটি ফ্ল্যাটে। শিলংয়ে শীতের প্রকোপ বাড়ায় গত ১ ডিসেম্বর তারা শিলং ছেড়ে কলকাতা চলে যান। সেখানে গিয়ে একটি ফ্ল্যাটে ওঠেন তারা।
সংশোধন: সম্প্রতি, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি থানার পুলিশ কলকাতা থেকে সিলেটের আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় 'ভারতে ধর্ষণের অভিযোগে চার আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার' শিরনামে খবর প্রকাশিত হয়। পরে Fact Watch ফ্যাক্টচেক করে জানায় এই খবরটি সত্য নয়। স্বাধীনভাবে খবরটি যাচাই করতে না পারায় এই অনিচ্ছাকৃত ভুলটি হয়।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যায় এই চারজনকে মূলত অনুপ্রবেশ, ছিনতাই, জাতীয় সড়কে ডাকাতি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্য মেঘালয়ের পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়, মেঘালয় রাজ্যের একটি ফৌজদারি মামলায় পালিয়ে থাকা চারজন বাংলাদেশিকে কলকাতা থেকে তারা গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে। এরা সবাই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে এদের বিরুদ্ধে মেঘালয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আছে বলে যে খবর রটেছে, তা সঠিক নয় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন মেঘালয় পুলিশের মহাপরিচালক ইদাশিশা নংরাং।
নংরাং বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “ওই চারজনের বিরুদ্ধে ডাউকি থানার একটা মামলা ছিল। কোনও ধর্ষণের অভিযোগ নেই এদের বিরুদ্ধে। ডাউকি থানায় এদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চারটি ধারা এবং বিদেশি আইনের ১৪ নম্বর ধারায় অভিযোগ ছিল। সেই মামলাতেই কলকাতা থেকে এদের গ্রেফতার করে আনা হয়েছে।”
এছাড়া মেঘালয়ের সংবাদপত্র শিলং টাইমসে এই চারজনকে আটকের ঘটনা নিয়ে গতকাল সোমবার (৯ডিসেম্বর) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনে তাদেরকে আটকের ব্যাপারে বলা হয়েছে, গত রোববার কলকাতায় চারজন আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা গত মাসে পশ্চিম জৈন্তিয়া হিলসের ডাওকিতে স্থানীয় ট্রাক চালকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।