আফগানিস্তানের ৩৪ প্রদেশের মধ্যে ১০টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী তালেবান। কোণঠাঁসা হয়ে পড়া আফগান সরকারের আশরাফ গনি নিয়ন্ত্রিত কাবুল সরকার তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
তবে আফগান সরকার বা তালেবানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব নিয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও তালেবানের মধ্যে এই শান্তি আলোচনা চলছে। কিন্তু একদিকে যেমন আলোচনা চলেছে, অপরদিকে আফগানিস্তানজুড়ে তালেবান যোদ্ধারা সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে একের পর এক অঞ্চল দখল করেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গজনি প্রদেশের রাজধানী দখল করেছে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। শহরটি আফগান রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরে। তীব্র লড়াই চলছে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী ও আফগানিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম শহর লস্কর গাহেও। ইতোমধ্যে সেখানকার আঞ্চলিক পুলিশ সদরদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।
আল জাজিরার খবর বলছে, তীব্র আক্রমণের মুখে তালেবানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন লস্কর গাহের একদল পুলিশ কর্মকর্তা। বাকিরা আশ্রয় নিয়েছেন এখনো সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা গভর্নর অফিসে। লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর অনেক সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে, কান্দাহার কারাগারে তাণ্ডব চালিয়েছে তালেবান। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের একটি দল কান্দাহার কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে কয়েকশ’ বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। কারাগারটিতে এর আগেও হানা দিয়েছিল তালেবান। তখনো অসংখ্য বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটেছিল।
তালেবানরা ইতোমধ্যে বাগলান প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-খুমরি, ফারাহ’র রাজধানী ফারাহ, নিমরোজের রাজধানী জারাঞ্জ, তাখারের তালোকান, কুন্দুজের রাজধানী কুন্দুজ, সার-ই-পল প্রদেশের রাজধানী সার-ই-পাল, সামানগানের রাজধানী আইবাক, জাওজানের শেবেরগান, বাদাখশানের ফয়জাবাদ ও গজনি প্রদেশের রাজধানী শহর গজনি দখল করে নিয়েছে।
এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, তালেবান মিলিশিয়ারা ইতিমধ্যে অর্ধেক আফগানিস্তান নিজেদের দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও ইরানের সঙ্গে ‘বর্ডার ক্রসিং’ রয়েছে। তবে তালেবান অবশ্য দেশের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করছে।
তালেবানের হামলা-সহিংসতায় চলতি বছর আফগানিস্তানজুড়ে অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে, গত মে মাস থেকে এর হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
একাত্তর/এসি