দায়িত্ব নিয়েই ‘ঝড় তোলা’র প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

সোমবারই শপথ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ফেরা বৈশ্বিক রাজনীতি ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। শোনা যাচ্ছে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এরইমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প `আমেরিকার পতন’ বন্ধ করার এবং দেশকে পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জানা গেছে, শপথ গ্রহণের প্রথম দিনই ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী আদেশে সই করার পরিকল্পনা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে গণনির্বাসন কর্মসূচি এবং তেল খনন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি।

ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া, পরিবেশ রক্ষায় নিয়মের কড়াকড়ি কমানো এবং ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম বন্ধ করার মতো বড় বড় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আমরা আমেরিকাকে প্রথমে রাখবো, আর সোমবার থেকেই এর কাজ শুরু হবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সোমবার দুই শতাধিক নির্বাহী পদক্ষেপে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করছেন অনেকে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাহী আদেশ, যা আইনত বাধ্যতামূলক হবে সেইসাথে আছে প্রেসিডেন্টের অন্যান্য নির্দেশনা, যা সাধারণত বাধ্যতামূলক হয় না।

Donald-Trump2

৭৮ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা রোববার (২০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে একটি উচ্ছ্বসিত ক্যাম্পেইনধর্মী সমাবেশে সমর্থকদের বলেন, আগামীকাল (সোমবার) দুপুরে আমেরিকার দীর্ঘ চার বছরের পতনের যবনিকাপাত হবে এবং আমরা আমেরিকার শক্তি ও সমৃদ্ধির এক নতুন যুগ শুরু করবো।

তিনি বলেন, আমি ঐতিহাসিক গতিতে এবং শক্তি দিয়ে কাজ করবো এবং আমাদের দেশের প্রতিটি সংকট সমাধান করবো।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক এ সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয় হ্রাস কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন।

মাস্ক বলেন, আমরা আমেরিকাকে শতাব্দীর জন্য শক্তিশালী করে তুলবো।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ ২০ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় (গ্রিনেচ মান সময় ১৭.০০ বা বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১টা) শুরু হয়। গত কয়েক বছরে ক্যাপিটল হিলের পশ্চিম লনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলেও এবার সেটি হবে ক্যাপিটল রোটুন্ডায়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার শপথের দিন দুপুরে তাপমাত্রা মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। তবে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যারেড ও সংগীতানুষ্ঠান হবে ইনডোর ভ্যানু ক্যাপিটল ওয়ান এরিনায়। ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে নতুন করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

Trump 3

ট্রাম্প বলেন, খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে আমি প্রার্থনা, অন্যদের বক্তৃতা এবং আমার শপথ ও অভিষেক ভাষণটি ইউএস ক্যাপিটল হিলের হলরুমে আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছি, যেমনটি ১৯৮৫ সালে রোনাল্ড রিগান করেছিলেন।

সাধারণত মার্কিন সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি নতুন প্রেসিডেন্টের শপথবাক্য পাঠ করান। এবার জন রবার্টস দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্পের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের প্রথম ধারায় নেওয়া শপথে তিনি বলবেন, আমি দৃঢ়ভাবে শপথ করছি, বিশ্বস্ততার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের দায়িত্ব সম্পাদন করব এবং আমার সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষা, সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবো।

Donald-Trump1

২০১৭ সালে প্রথম অভিষেকের সময় ট্রাম্প ১৮৬১ সালে আব্রাহাম লিংকনের শপথ নেওয়া বাইবেলে ছুঁয়ে শপথ নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তার প্রয়াত মা মেরি অ্যান ম্যাকলিওড ট্রাম্পের উপহার দেওয়া দ্বিতীয় আরেকটি বাইবেলও ছিলো।

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রযুক্তি জগতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব; যেমন-ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস এবং মার্ক জাকারবার্গ। বিদায়ি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

অতিথিদের মধ্যে আরও থাকবেন বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামাসহ জীবিত সব সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শপথ অনুষ্ঠানে অতিথিদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকে।

এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শপথ নেওয়ার পর তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন। তার ভাষণের মূল বিষয় হবে ঐক্য, শক্তি এবং ন্যায়বিচার।