দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পরপরই একের পর এক নির্বাহী আদেশে সই করে রীতিমতো ঝড় তুলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সবশেষ শুল্ক আগ্রাসনে মেতে উঠেছেন তিনি। কানাডা, মেক্সিকো, চীনের পর ইউরোপীয় পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এসব পদক্ষেপকে তিনি আমেরিকার জন্য আশীর্বাদ বললেও শঙ্কায় আছেন অর্থনীতিবিদরা। নতুন করে এই বাণিজ্য যুদ্ধতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মন্দাভাব ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদারদের অন্যতম চীন, কানাডা ও মেক্সিকো। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি পণ্যের ৪০ শতাংশ গেছে এ তিন দেশ থেকে। শনিবার ট্রাম্প কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে চীনা পণ্যে বর্তমান হারের চেয়ে বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। তিনটি দেশ থেকেই পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপের ফলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
শুল্ক আরোপের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দেবে। এমনকি এটা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী-শ্রমিকদের ক্ষতি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক জোসেফ স্টিগলিৎজ বলেছেন, শুল্কের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের জন্যও খুব খারাপ হবে।
কানাডার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জিম স্ট্যানফোর্ড বলেছেন, কানাডার উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অটো শিল্পের ব্যাপক ক্ষতি করবে।
অনেক অর্থনীতিবিদ এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ট্রাম্পের শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের অনেক উৎপাদনকারী, কৃষক ও কর্মী-শ্রমিকদের ক্ষতি করবে।
সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ, উত্তেজনা ও এর পাল্টা ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পিত বিনিয়োগ কমিয়ে দেবে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আঘাত হানবে। করোনা ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে।
তার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ নির্দেশে নতুন এক বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি তৈরি হওয়া এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মন্দাভাব ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।