আবারও হুমকিকে হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতির চুক্তি!

আবারও ভেস্তে বসেছে হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি। ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এই ঘোষণার পর হামাসের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত না মানার পাল্টা অভিযোগ এনেছে ইসরাইল। 

আর, শনিবার দুপুরের মধ্যে হামাস বাকি জিম্মিদের মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, হুমকি নয়। 

১৫ মাস রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এরই মধ্যে হামাসের কাছে বন্দী থাকা ১৬ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মুক্তি পাচ্ছেন ইসরাইলের কারাগারে বন্দী কয়েকশ ফিলিস্তিনিও। এরই ধারাবাহিকতায় আসছে শনিবার আরও তিনজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল হামাসের।

তবে সোমবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামাসের সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইলের কারণে যুদ্ধবিরতির পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের উত্তর গাজায় ফিরতে দেরি হয়েছে। তাদেরকে গুলির লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে দেয়নি ইসরাইল। তাই পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত জিম্মি মুক্তি স্থগিত থাকবে।

হামাসের এই বিবৃতি পর পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি বলেন, হামাস জিম্মি মুক্তি বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির পুরোপুরি লঙ্ঘন। এরই মধ্যে ইসরাইলি সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন কাৎজ। তিনি জানান, তারা যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত আছেন। 

আর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, হামাসের ঘোষণার বিষয়ে জিম্মি ব্যক্তিদের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

হামাস-ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে গাজার সব জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়া না হলে যুদ্ধবিরতি বাতিল করা উচিত। ইসরাইলকে ওখানে নরকের যন্ত্রণা বইয়ে দিতে বলবো। চুক্তির শর্ত ভেসে যাক। ইসরাইল ওই পরিস্থিতি পার হয়ে আসতে পারবে।

তবে তিনি এটাও জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরাইলকেই নিতে হবে। ট্রাম্প দাবি করেন, এক সঙ্গেই সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। দফায় দফায় তিন-চারজন করে জিম্মি মুক্তির বিষয়টির সঙ্গে একমত নন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি ইসরাইলকে বলতে চাই, যদি শনিবার ১২টার মধ্যে সব জিম্মিকে ফেরত না দেওয়া হয়, তাহলে যুদ্ধবিরতি বাতিল করুন।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, গাজা থেকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ না করলে তিনি জর্ডান ও মিশরে ত্রাণ পাঠানো বন্ধ করে দেবেন। এ সপ্তাহের শেষভাগে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাবেন নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর আগে সোমবার তিনি ওয়াশিংটনে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আব্দেলাত্তির সঙ্গে বৈঠক করেন।