জার্মান নির্বাচন: বুথ ফেরত জরিপে এগিয়ে সিডিইউ/সিএসইউ

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে পার্লামেন্ট তথা বুন্দেসট্যাগের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে বুথ ফেরত জরিপে এগিয়ে আছে রক্ষণশীল দল সিডিইউ/সিএসইউ।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে কট্টর ডানপন্থী দল এএফডি। তৃতীয় অবস্থানে এসপিডি।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোমবারের মধ্যেই পূর্ণ ভোট গণনা শেষ হবে।

বুথ ফেরত জরিপে দেখা গেছে, রক্ষণশীল দল সিডিইউ/সিএসইউ ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি পেয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।

বর্তমান জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন এসপিডি রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। দলটিকে ভোট দিয়েছে ১৬ শতাংশ জার্মান।

ডয়চে ভেলের খবরে বলা হচ্ছে, সিডিইউ/সিএসইউ প্রার্থী ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস হতে পারেন জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর। তারা হয়তো এসপিডি বা গ্রিনের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করবে।

এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ছয় কোটি। এবারের নির্বাচনে ৮৩-৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। জার্মানির সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে এটা রেকর্ড।

জার্মানির জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান এআরডি-ডাচল্যান্ডট্রেন্ডের সবশেষ জরিপ অনুসারে, জার্মান জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অভিবাসন, যা ৩৭ শতাংশ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। গত মাসের তুলনায় এটি ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

german

এছাড়া অর্থনীতির অবস্থা, সশস্ত্র সংঘাত, পররাষ্ট্রনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা, অসমতা, দারিদ্র্যতা, শিক্ষা, সন্ত্রাস ও অপরাধ, পেনশন ব্যবস্থা, মুদ্রাস্ফীতি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আছে।

অবশ্য জরিপ বলছে, সম্প্রতি অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রধান দলগুলো বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নির্বাচনের পর প্রাথমিক ফলাফল বা এক্সিট পোল প্রকাশিত হলেও ডাকযোগে প্রদত্ত ভোটসহ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

নতুন চ্যান্সেলর নিয়োগের প্রক্রিয়াও সময়সাপেক্ষ। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকার গঠনের জন্য জোট আলোচনা শুরু করবে। এই আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হলে, ফেডারেল প্রেসিডেন্ট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থীর নাম চ্যান্সেলর পদে প্রস্তাব করবেন। সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে চ্যান্সেলর নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জোট গঠনের জটিলতার কারণে, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসও লেগে যেতে পারে।