রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া শত শত কোটি ডলারের সহায়তা ফেরত চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বাইরে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের বার্ষিক জমায়েত- কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে একথা বলেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনকে ঋণ হিসেবে অর্থ দিয়েছে ইউরোপ। তারাও তাদের অর্থ ফেরত পাবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এমন শর্তে ইউক্রেনকে অর্থ দেয়নি। তাই তিনি চান যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অর্থের বিনিময়ে ইউক্রেন যেন কিছু একটা দেয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেনের কাছে তাদের বিরল খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি তেল চাচ্ছে।
এর আগে ইউক্রেনকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের দেয়া সহায়তার অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রসঙ্গে কথা বললেন ট্রাম্প। এদিকে, ইউক্রেন শিগগিরই খনিজ চুক্তি মেনে নেবে বলে আশা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউক্রেন খুব দ্রুতই তাদের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ করার বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রহণ করবে।
কিয়েভ ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন চাপ বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ধরনের চুক্তি সই করতে ‘প্রস্তুত নন’। ইউক্রেন চায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত যেকোনো চুক্তিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কারণ তারা রাশিয়ার প্রায় তিন বছরের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
কিয়েভকে দেয়া সাহায্যের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রাস্প ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদের দাবি করেছেন, তবে ইউক্রেন তা অস্বীকার করেছে। কারণ ট্রাম্পের দাবি করা অর্থের চেয়ে খনিজ সম্পদের মূল্য অনেক বেশি। প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে ইউক্রেন জানিয়েছে, বিনিয়োগের বিষয়ে চুক্তিতে কোনো মার্কিন বাধ্যবাধকতা নেই, তাদের সম্পর্কে সব কিছুই খুবই অস্পষ্ট এবং তারা আমাদের থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার আদায় করতে চায়।
কিয়েভের ভাষ্য, এটা কী ধরনের অংশীদারিত্ব? আর কেন আমরা তাদের ৫০০ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে, এর কোনো উত্তর নেই। ইউক্রেন খসড়ায় সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, রুশ আগ্রাসনের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সামরিক সহায়তা দিয়েছে। কিয়েভের মিত্রদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি। তবে ট্রাম্পের দাবিকৃত অর্থের তুলনায় অনেক কম।
