রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরুর আগে, সোমবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করবেন।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর বিভিন্ন মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন। যেমন- বন্দি বিনিময়ে সহায়তা এবং গত মাসে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন।
মঙ্গলবার আলোচনায় বসবেন মার্কিন এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। আলোচনা ইউক্রেনীয় খনিজ চুক্তি এবং যুদ্ধ শেষ করার উপায় নিয়ে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলেনস্কি জানান, তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় থাকছেন না। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলে তার প্রধান সচিব, পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা থাকবে।
এর আগে জেলেনস্কি, মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেয়া পোস্টে জানান, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সৃজনশীল আলোচনার জন্য পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ বিষয়ে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, আলোচনার উদ্দেশ্য হল একটি শান্তিচুক্তির জন্য ফ্রেমওয়ার্ক স্থাপন এবং একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির কাঠামো তৈরি করা। অবশ্য মস্কো সাময়িক যুদ্ধবিরতির ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জেলেনস্কি বলেন, আমি এই সফরের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। এটি কেবল শুরু। এই কাঠামোতে সাফল্য মিলতে পারে। এই চুক্তির সাফল্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের কথোপকথনের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, খনিজ সম্পদ চুক্তি অনুযায়ী, সম্পদের রাজস্ব ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মালিকানাধীন একটি তহবিলে জমা হবে। বাইডেন প্রশাসনের দেওয়া সহায়তা বিবেচনায় কিয়েভ ঋণখেলাপি হবে না।
জেলেনস্কি বলেন, সহায়তা বন্ধ হলে সেটি অবিচার হবে। ওয়াশিংটন পুরোপুরি সহায়তা বন্ধ করবে কি না সেই বিষয়ে তিনি ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া যদি সহায়তা বন্ধ করা হয়, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইউক্রেন অস্ত্র কিনতে পারবে কি না, সেটিও বৈঠকে তুলবেন জেলেনস্কি।
ওভাল অফিসে জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এটি হবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। আলোচনা ইউক্রেনীয় খনিজ চুক্তি এবং যুদ্ধ শেষ করার উপায় নিয়ে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের খনিজ চুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয় বলে দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।