জার্মানির সম্ভাব্য পরবর্তী চ্যান্সেলর ও দেশটির রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের প্রধান ফ্রিডরিখ মেৎর্স বলেছেন, ‘জার্মানি নিজের রূপে ফিরে আসছে।’
জার্মানির অর্থনীতি শেষ কয়েকবছর ধরে বেশ দুর্বল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগ ঋণসীমা শিথিলের ঐতিহাসিক এক বিলে অনুমোদন দিয়েছে। যা চূড়ান্ত অনুমোদনে শুক্রবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের (বুন্ডেসরাট) অধিবেশন রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দিনব্যাপী বার্লিনের বুন্টেসটাগে বিলটি নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে হ্যাঁ/না ভোট অনুষ্ঠিত হয়। পক্ষে ৫১৩ ভোট ও বিপক্ষে ২০৭ ভোট পড়ে। ঋণসীমা শিথিলে সংবিধান সংশোধনের এই বিল পাসের জন্য ৪৮৯টি ভোট দরকার ছিলো।
শুক্রবার বুন্ডেসরাটে সংশোধনীটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর বিশাল ঋণ নিতে আর কোনো বাধা থাকবে না জার্মান সরকারের।
মঙ্গলবার ভোটাভুটির পরেই ফ্রিডরিখ মেৎর্স বলেন, আমরা অন্তত এক দশক ধরে একটি মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ অনুভব করেছি। আজ আমরা প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, এটি একটি নতুন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সম্প্রদায়ের দিকে প্রথম বড় পদক্ষেপের চেয়ে কম কিছু নয়।
জার্মানির রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের প্রধান ফ্রিডরিখ মেৎর্স। জার্মানিতে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট সিডিইউ-সিএসইউ জয়ী হয়েছে। তিনিই যে জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর হচ্ছেন, তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত।
জার্মান সরকার সংবিধান অনুযায়ী তাদের নিজস্ব জিডিপির কেবল দশমিক ৩৫ শতাংশ সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য ঋণ নিতে পারে। এমনকি জার্মানির ১৬টি রাজ্যের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য।
জার্মান সরকার মূলত ব্যক্তির কর ও শুল্ক, রপ্তানি আয় থেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। সংবিধান সংশোধনী বিলটি চূড়ান্ত পাশ হলে আর এই বাধা থাকবে না।
নতুন সরকার তাদের প্রস্তাবিত ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর তহবিল থেকে ১০০ বিলিয়ন ইউরো রাজ্য সরকারগুলোকে দেবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে তাপ ও জ্বালানি প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।
গ্রিন পার্টির চাপে আরো ১০০ বিলিয়ন ইউরো জলবায়ু সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। বাকি ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর একটি বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করা হবে।
ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দুর্দান্ত খবর কারণ এটি একটি খুব স্পষ্ট বার্তা পাঠায়, ইউরোপের জন্যও একটি খুব স্পষ্ট বার্তা যে জার্মানি প্রতিরক্ষায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
একই অনুষ্ঠানে কোপেনহেগেনে তার সাথে উপস্থিত থাকা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এটি দুর্দান্ত খবর। কারণ আমাদের একটি শক্তিশালী ইউরোপ প্রয়োজন।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যা আগামী এক দশকের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের অনুমতি দিতে পারে জার্মানি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মান ভোটারদের ওপর ইনফ্রাটেস্ট ডিমাপ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৬% মানুষ প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে, ২০% বিদ্যমান বাজেট ধরে রাখতে চায়, আর মাত্র ১১% প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর পক্ষে।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে জার্মানি ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করতে পারবে, ফলে ২০২৫ সালের মোট ইউক্রেন সহায়তা ৭.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউক্রেনকে সবচেয়ে বেশি সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জার্মানি। বুন্ডেসরাট, জার্মানির উচ্চকক্ষে শুক্রবার নতুন প্যাকেজের ওপর চূড়ান্ত ভোট হবে।