বাংলাদেশের জনগণই ভবিষ্যৎ ঠিক করবে: যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশি জনগণই ঠিক করবে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচন ও গণতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেছেন,  বাংলাদেশ বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, আর এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় জনগণের ভূমিকাই হবে মূল নির্ধারক।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। এ সময় ব্রিটিশ এমপি ও শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে ট্যামি ব্রুস বলেন, এটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।  

সম্প্রতি ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের উপর ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ আন্দোলনের মধ্যে কোকাকোলাসহ বিদেশি নানা পণ্য আছে, এমন সব দোকানে হামলা হয়। ব্যাপক ভাঙচুর হয় কেএফসি, পিজাহাট, বাটার শোরুমে। এ নিয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী গ্রেফতার হয় ৭২ জন। 

দুই সপ্তাহ আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসেও ‘বাংলাদেশে সম্প্রতি উগ্র ইসলামপন্থি সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির অভিযোগ এনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক এবং বিভ্রান্তিকর বলে জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। 

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বিভিন্ন মার্কিন ব্র্যান্ডে হামলা এবং ইসলামি চরমপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ জানালে ব্রুস বলেন, আমি আপনার বক্তব্য শুনেছি এবং উদ্বেগের প্রশংসা করি। বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং আমরা এর পরিস্থিতি নিয়ে আগেও বহুবার আলোচনা করেছি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ট্যামি ব্রুস বলেন, নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণতন্ত্রের চর্চাও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, সেটিই ঠিক করবে দেশটির ভবিষ্যৎ। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেখা গেছে, ভুল সিদ্ধান্তের কী ভয়াবহ প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের জন্য সামনে থাকা বিকল্পগুলো বেছে নেয়ার সুযোগই ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, টিউলিপে বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বাংলাদেশের আদালত। এ বিষয় এবং সাম্প্রতিক প্রতিবাদগুলো বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বের আওতায় পড়ে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।