ইরানের সামরিক এবং পরমাণু স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা স্থগিত করেছে দেশটি। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শুক্রবার (১৩ জুন) পাঁচ ধাপে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সহযোগিতা করেছে -এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
আগামী রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কটে ষষ্ঠ দফায় বৈঠকে বসার কথা ছিলো। কিন্তু ইসরাইলের হামলায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে করেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি।
তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই, কারণ ইরান মনে করে এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইসরাইলের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা এখন অর্থহীন।
বাকাই আরও বলেন, একদিক দিয়ে আলোচনার অভিনয় করে অন্যকে দিয়ে হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের কোনো মানেই হয় না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মদদ ছাড়া কখনওই ইরানে হামলা চালাতে পারতো না ইসরাইল। আর তাই, তেহরানের সাথে আর দর কষাকষির কোনো সুযোগ নেই ওয়াশিংটনের।
এদিকে, ইসরাইল ও ইরান দুই পক্ষকেই দ্রুত হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধিকে নিরুৎসাহিত করেন।
এদিকে ইসরাইলের এমন হামলার পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পারমাণবিক আলোচনায় মধ্যস্থতা করা ওমানও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি ইরানে এই হামলাকে ইসরাইলের বিপজ্জনক ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে ওমান বলেছে, এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হয়েছে। এ ধরনের আগ্রাসী ও নির্বিচার আচরণ অগ্রহণযোগ্য। এতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হবে।