ইরান ও ইরাকে পবিত্র আশুরা পালনের প্রস্তুতিতে ধুম 

শিয়া প্রধান দেশ ইরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে আশুরা পালন করা হয়। তবে রাষ্ট্রীয় আশুরা উদযাপনের চিত্র মূলত এক ধরনের আদর্শিক এবং রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। রাষ্ট্রীয় চিত্রের বাইরেও বিভিন্ন অঞ্চলে বহু ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় রীতি রয়েছে। এর কিছু অবহেলিত, কিছু নিষিদ্ধ, তবে এখনো অনেক ইরানির সংস্কৃতির অংশ।

ইরানে আশুরায় কালো পোশাক পরা শোকাহত মানুষের মিছিল হয়। এই চিত্র মূলত রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি জোরদার বার্তা প্রদান করে এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে বেসরকারি অনেক অনুষ্ঠানে আশুরা উদযাপনের একেবারে ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে।

শিয়া ধারণা অনুযায়ী, রাসুল (সা.) এ নাতি হুসাইন (রা.) ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে আশুরার দিনে ন্যায়ের পক্ষে এক যুদ্ধে জড়ান। তিনি জানতেন যে, তিনি ও তার অনুসারীরা শহীদ হবেন, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন তাদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই তিনি যুদ্ধ করেন।

ইরানি সরকার বর্ণনা অনুযায়ী, আশুরা মূলত প্রতিরোধ ও বীরত্বের প্রতীক। ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি একবার বলেছিলেন, আশুরার শিক্ষা হচ্ছে সংলাপ ও যুক্তির শিক্ষা। কিছু ভিন্নমতাবলম্বী আলেম আশুরাকে সহনশীলতা ও শান্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের আলেমরা আশুরাকে সরকারের নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ করে পালনের কথা বলেন। আশুরার উদযাপন উপলক্ষে অনেকে কালো পোশাক পরেন, বুকে এবং মাথায় আঘাত করেন, একজন আলেম আবেগঘন ভঙ্গিতে আশুরার গল্প বলেন। এবং অনেক সময় অতিরঞ্জিত গল্প বলেন।

এভাবে এই আচার-অনুষ্ঠানকে একদিকে আলেমদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, অপরদিকে রাষ্ট্রীয় বার্তাও এতে যুক্ত করা যায়। ইরান সরকার অনুমোদিত আশুরা অনুষ্ঠানের মধ্যে আরেকটি চিত্র এমন রয়েছে, যেখানে মা-বাবারা তাদের শিশুকে নিয়ে আশুরার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং হুসাইন (রা.)-এর শহীদ শিশুদের স্মরণ করেন। ১০ বছর আগে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর সূচনা হয়।

ইরাকের নাজাফ শহরে আশুরা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেখানকার আদিবাসীরা। এলাকার ঐতিহ্য অনুযায়ী, চলছে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি। আশুরার দিন ইমাম আলী (রা.) কবরের উদ্দেশ্যে মশাল মিছিল নিয়ে যাবেন বিভিন্ন শহরের মানুষ। তাই আশুরার ঠিক আগে শেষ মুহূর্তে তৈরি করা হচ্ছে মশাল। 

সাদ্দাম হোসাইনের আমলে এই প্রথা নিষিদ্ধ ছিলো। তার পতনের পর ২০০৩ সাল থেকে আবারো শুরু করেন এলাকাবাসী। ইমাম হোসাইনেরর মৃত্যুকে স্মরণ করতেই এই মশাল মিছিল।