ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, আরও বড় ঘোষণা দিতে পারেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর কথা বলার পর সোমবার কিয়েভে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন ট্রাম্পের ইউক্রেন দূত কিথ কেলগ। আশা করা হচ্ছে, পূর্বের অবস্থান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে এসে ট্রাম্প ইউক্রেনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহের জন্য একটি নতুন পরিকল্পনাও ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।

সংবাদভিত্তিক মার্কিন ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস পুরো বিষয়টির সাথে পরিচিত দুটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব খবর জানিয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে শান্তি চুক্তি নিশ্চিতে মার্কিন প্রচেষ্টায় অগ্রগতি না হওয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের হতাশার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অনেক দিন ধরেই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহতের জন্য আমেরিকার কাছে আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছিলেন। রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করে পূর্বে অগ্রসর হচ্ছে এবং প্রধান লক্ষ্যগুলো পরিহার করার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

রোববার ওয়াশিংটনের বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের জন্য প্যাট্রিয়ট পাঠাবো, যা তাদের দারুণভাবে প্রয়োজন, কারণ পুতিন সত্যিই অনেক মানুষকে অবাক করে দেন। তিনি সুন্দর কথা বলেন এবং তারপর সন্ধ্যায় সবাইকে বোমা মেরে ফেলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা মূলত তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অত্যন্ত অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যাচ্ছি। এজন্য ইউক্রেন পুরো অর্থ দেবে। ট্রাম্প কতটি প্যাট্রিয়ট ইউক্রেনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন তা বলেননি, তবে তিনি বলেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দেবে।

ট্রাম্প এই সপ্তাহে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাথেও দেখা করবেন ইউক্রেনসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য এবং জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এবং দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাথে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের প্রকাশ করা একটি প্রস্তাবের অধীনে, বার্লিন ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ক্রমে অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে এবং মার্কিন চাপের মুখে ন্যাটোতে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জার্মানিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ukrain1

ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুতিন ৩ জুলাই ফোনে ট্রাম্পকে বলেছিলেন যে, মস্কো আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। তবে তার মূল লক্ষ্য থেকে পিছু হটবে না।এক বছর আগে, পুতিন বিদ্যমান যুদ্ধক্ষেত্রের রেখা স্বীকৃতি দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি দিয়ে শান্তি চুক্তির জন্য প্রস্তুত ছিলেন বলে সে সময় জানিয়েছিলেন।

কিন্তু গত মাসে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় রাশিয়া শান্তির জন্য শাস্তিমূলক শর্তাবলি নির্ধারণ করে, কিয়েভকে নতুন বিশাল ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার এবং তার সেনাবাহিনীর আকারের সীমাবদ্ধতা মেনে নেয়ার দাবি করলে সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ আরও জোরালো করেছে।