রাশিয়ার উপর ইউক্রেনীয় উপর্যপুরি ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, শনিবার সকাল থেকে রাশিয়ার উপর ২৩০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী মস্কোর আকাশের উপরে ২৭টিও বেশি ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়েছে। খবর বিবিসি।
রাশিয়ার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মতে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা কারণে রাজধানীতে পরিষেবা প্রদানকারী চারটি প্রধান বিমানবন্দর ব্যাহত হয়েছে এবং ১৩০টিরও বেশি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপর থেকে সবগুলো বিমানবন্দের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, রাতভর ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুর অপারেটরস (এটোর) রোববার জানিয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে মস্কো বিমানবন্দরগুলো ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ বার বন্ধ ছিলো। মস্কোর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কালুগা অঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শনিবার সকাল থেকে ৪৫টি ড্রোন আটক করেছে, যার ফলে কালুগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোস্তভ এবং ব্রায়ানস্কসহ ইউক্রেনীয় সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলগুলোতে এবং কৃষ্ণ সাগরের উপর ড্রোনগুলোও গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। মে মাসে, কিয়েভ ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৫০০ টিরও বেশি ড্রোন হামলা করার পর দেশজুড়ে কমপক্ষে ৬০,০০০ যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছিলেন।
ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোনেস্কের বিভিন্ন অংশে রুশ বিমান হামলায় দুজন নিহত হয়েছে, এবং সুমিতে আবাসিক ভবন পুড়ে যাওয়ার পর ৭৮ বছর বয়সী এক মহিলা মারা গেছেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা রোববার রাতের দিকে ৫৭টি রুশ ড্রোনের মধ্যে ১৮টি গুলি করে ভূপাতিত করেছে, এবং রাডার জ্যাম হওয়ার পরে আরও সাতটি ড্রোন হারিয়ে গেছে।
সুমি এবং দোনেস্কের পাশাপাশি, খারকিভ এবং দিনিপ্রোপেট্রোভস্কের জাপোরিঝিয়াসহ অন্যান্য ফ্রন্ট-লাইন এলাকাগুলোতে আক্রমণ করা হয়েছে। পুতিন ইউক্রেনের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, তবে মস্কোর অগ্রাধিকার হল তাদের লক্ষ্য অর্জন, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের এমন বক্তব্যের পর ইউক্রনে নতুন করে হামলা শুরু করে রাশিয়া।
এদিকে, শনিবার, ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর সাথে নতুন দফায় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, যার লক্ষ্য গত মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচনা পুনরায় শুরু করা।