ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে মুসলিমদের উচ্ছেদ ও বাংলাদেশে বিতাড়ন করছে ভারত। গত কয়েক সপ্তাহে হাজারো মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো এই দমন অভিযানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে সেসব মানুষরা এখন তাঁবুর নিচে বসবাস করছেন এবং বিতাড়িত হবার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এক্সে এ অভিযানের পক্ষে বিভিন্ন সময় সাফাই গেয়েছেন। যদিও রয়টার্সের অনুরোধ সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে এরিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এভাবেই ভারতের আসাম রাজ্যের গোলপাড়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঘরের আসবাব। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি। জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের। এরপর একটি কোণে নীল ত্রিপল দিয়ে তৈরি এসব অস্থায়ী আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন শত শত মুসলিম পুরুষ, নারী ও শিশু।
আসামে আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে ঘিরে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে আসামে মুসলিমদের উচ্ছেদ ও বাংলাদেশে বিতাড়ন করছে ভারত। গত কয়েক সপ্তাহে হাজারো মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আসামের বাসিন্দা শাহ জামাল হুসাইন আক্ষেপ নিয়ে জানালেন তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য পাননি। তিনি বলেন, তারা আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলেছে এবং তারপর আমরা এই ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নিয়েছি। সরকার আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি, প্রশাসনের কেউ আমাদের সাথে দেখা করতে আসেনি। আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাইনি।
আসামের আরেক বাসিন্দা জাবেদুল ইসলাম জানান, মুসলিম হওয়ার কারণেই তাদের ওপর এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, গরুর মাংস, মন্দির, মসজিদ, মুসলিম এগুলো কথা বলেই তারা আমাদের বাংলাদেশি বলে... এত জঘন্য কার্যকলাপ... আমাদের উপর যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদি কোনও বাংলাদেশি থেকে থাকে, আমরা চাই সরকার তাদের বিতাড়িত করুক।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের চলমান অভিযান কেবল মুসলিমদের লক্ষ্য করেই চালানো হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে বিক্ষোভ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বলেছেন, “বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলছে।
যদিও উচ্ছেদ হওয়ার বাসিন্দাদের বলছেন তাদের কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণের সকল নথিই রয়েছে। তারা বলেন, ওরা বলে আমরা বাংলাদেশি, আমরা কেন বাংলাদেশি হব? আমাদের কাছে সব প্রমাণ আছে। আমাদের বাবা, দাদা, কাকাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ আছে। আমাদের কাছে সব পুরোনো নথি আছে... ওরা কতগুলো নথি চায়?
রাজ্যের সরকারি তথ্য বলছে, মাত্র গত এক মাসেই আসামের পাঁচটি এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৬-২০২১ মেয়াদে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছিল। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এদের মধ্যে অনেকেই ভুলভাবে ‘বিদেশি’ তকমা পেয়েছেন এবং তারা আর্থিকভাবে এতটাই দুর্বল যে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন না।