ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়াতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগের ৫০ দিনের সময়সীমা কমিয়ে মস্কোকে ১০ থেকে ১২ দিনের একটি নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে ট্রাম্প বলেছেন, সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণা তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি ক্রেমলিন।
সোমবার, স্কটল্যান্ডে টার্নবেরি গলফ কোর্সে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প এসব কথা জানান।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের চিফ অফ স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাক রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য যে ৫০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন, তা কমিয়ে আনায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্পকে ইউক্রেন প্রশ্নে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ায় জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ইয়েরমাক বলেন, পুতিন কেবল ক্ষমতাকে সম্মান করেন এবং সেটি বড়াই করে বলে বেড়ান। আমেরিকা যখন শক্তির সাথে নেতৃত্ব দেয়, তখন অন্যরা দু’বার ভাবে। আর ইউক্রেনীয় এমপি কিরা রুদিক বলেছেন, রাশিয়ার অবিরাম হামলার পর ইউক্রেনীয়রা দেখতে চায়, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি ধৈর্য হারাচ্ছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার টার্নবেরিতে ট্রাম্পের স্কটিশ গলফ ক্লাবে সাংবাদিক ভরা একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কথা বলেছেন।
এই দুই মোড়ল অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় ইউক্রেন বিষয়ে একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য রাশিয়াকে ১০-১২ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প, যা তার আগের ৫০ দিনের সময়সীমাকে অর্ধেক করে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া চুক্তিতে না পৌঁছালে নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে পারেন।
এছাড়া, স্টারমার ও ট্রাম্প একমত হয়েছেন, গাজায় সাহায্য পৌঁছানো দরকার এবং তাদের যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন, স্টারমার দুর্ভিক্ষের চিত্রগুলিকে অসহনীয় বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, হামাসের সাথে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বন্দী অবস্থায় থাকা জিম্মিদের উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত শান্তি চুক্তি না হলে রাশিয়ার উপর ‘গুরুতর শুল্ক’ আরোপ করা হবে। তিনি ইউক্রেনের শহরগুলোতে চলমান রুশ বোমাবর্ষণে ক্ষোভ প্রকাশ করে যুদ্ধ থামাতে বারবার আহ্বান জানাচ্ছিলেন।
পুতিনকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, তাকে একটা চুক্তি করতেই হবে। খুব বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। পুতিন শান্তির কথা বললেও ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের উপর বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। আমি বলেছি, এভাবে হয় না। আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর হতাশ। পুতিনের ষঙ্গে এখন আর কথা বলার তেমন আগ্রহ নেই।
তবে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি রুশ জনগণকে ভালোবাসেন। ট্রাম্প বলেন, আমি রাশিয়ার সঙ্গে এমনটা করতে চাই না। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই যুদ্ধে রুশ এবং ইউক্রেনিয়ান- উভয় পক্ষেরই অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।