রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে তুরস্ক, ভারত ও চীনে বন্যা পরিস্থিতি

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে জ্বলছে তুরস্কের উত্তরাঞ্চলের কারাবুক ও সিরনাক প্রদেশের বনাঞ্চল। দবানল নিয়ন্ত্রণে কয়েক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেশটির হাজারো দমকল কর্মী। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। তীব্র তাপদাহে সৃষ্ট দাবানলে জ্বলছে আলবেনিয়া ও বুলগেরিয়াও। 

অন্যদিকে, ভারি বৃষ্টিতে ভারত ও চীনের বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে বাসিন্দাদের।

কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে তুরস্কের চতুর্থ বৃহত্তম শহর বুর্সা। আগুন থেকে রক্ষায় কয়েক হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম তুরস্কের শহরটির আশেপাশের বনাঞ্চলীয় পাহাড়ে লাগা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। 

আগুন নেভাতে এক হাজারের বেশি দমকল কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির কারাবুক, সিরনাক, অন্টালয়া, উসাক, মেরসিন প্রদেশের বনাঞ্চলেও বিশাল এলাকাজুড়ে দাবানল অব্যাহত রয়েছে। 

অন্তত ২০ টি সক্রিয় দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আলবেনিয়ার ডেলভিনা প্রদেশের কালাস ও বালকিজা শহরের বনভূমিও। তীব্র তাপ প্রবাহের কারণে এ আগুন আরো ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দুই হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। 

এদিকে, বুলগেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের দাবানলও এখনো আসেনি নিয়ন্ত্রণে। বরং প্রতিদিনই বনাঞ্চলের নতুন নতুন জায়গায় আরো দাবানল সক্রিয় হওয়ার খবর আসছে। আগুন আবাসিক এলাকার দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকায় তিনটি গ্রামের সব বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। 

একদিকে দাবানলে যখন হাঁসফাঁস করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তখনই ভারি বৃষ্টিতে ভারতের গুজরাট রয়েছে পানিবন্দি দশায়। বন্যার পানিতে সড়কগুলো ডুবে থাকায় চরম ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এতে একরকম থমকে গেছে গুজরাটের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন। 

এদিকে, চীনে টানা ভারি বৃষ্টিতে ১৭টি নদীর পানি বেড়েছে। বেইজিংসহ হেবেই, সানঝি, ফুজিয়ান, গানসু, ইউনান প্রদেশজুড়ে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা। দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের।