ইকুয়েডরের একটি পানশালায় বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুয়ায়াস প্রদেশের এল এমপালমে শহরের লা ক্লিনিকা নামের একটি বারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুইটি পিকআপে করে আসা বন্দুকধারীরা পিস্তল ও রাইফেল দিয়ে বারে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর পালিয়ে যাওয়ার সময় আরও একটি দলের ওপর গুলি চালায় তারা।
পুলিশ কর্মকর্তা মেজর অস্কার ভ্যালেন্সিয়া বলেন, দুইটি গাড়িতে করে আসা বন্দুকধারীরা পিস্তল ও রাইফেল দিয়ে পানশালায় থাকা সবাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পালিয়ে যাওয়ার সময় আরও একটি দলের ওপর গুলি চালায় তারা। নিহত শিশুটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক কিলোমিটার দৌড়েছিল। পরে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।
ধারণা করা হচ্ছে মাদক পাচারের রুট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্যাংয় এই হামলা চালাতে পারে। ভ্যালেন্সিয়া বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা ‘অ্যাকটিভ উলভস’ বলে চিৎকার করেছিল- যা স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের নাম হতে পারে, যারা মাদক পাচারের রুট নিয়ন্ত্রণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
গুয়ায়াস অঞ্চলটি মাদক চোরাকারবারিদের সহিংসতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেই একই প্রদেশের প্লায়াস শহরে একটি বারে পুল খেলার সময় ৯ জন নিহত হন। পুলিশ বলেছে, ওই ঘটনায় নিহতরা মূলত আশপাশের নিরীহ মানুষ, তারা আসল লক্ষ্য ছিল না।
সাংগঠনিক অপরাধ দমনে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া গত বছর অভিযান শুরু করেন। এরপর থেকে দেশটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম সহিংস দেশে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রতি লাখে হত্যার হার ছিল ৩৮ জন।
সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ইকুয়েডরে ৪ হাজার ৫১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একই সাথে বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কোকেন ইকুয়েডর হয়ে পাচার হয় বলেও জানিয়েছে সরকারি সংস্থাগুলো।