১৬ বছরের কম বয়সীদের ইউটিউব ব্যবহার নিষিদ্ধ করবে অস্ট্রেলিয়া

১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইউটিউব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ‘শিকারি অ্যালগরিদম’ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে তারা নতুন এক যুগান্তকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস।

এএফপির খবরে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলসের বরাতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৪ জন ইউটিউবে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখার কথা স্বীকার করেছে।

ইউটিউব বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হলেও শিশুদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সরকারের মত।

মন্ত্রী ওয়েলস বলেন, আমরা চাই শিশুরা জানতে পারুক তারা কে, তার আগে যেন সোশ্যাল মিডিয়া তাদের বলে না দেয় তারা কে হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভূমিকা আছে, কিন্তু শিশুদের টার্গেট করে কাজ করে এমন লুণ্ঠনকারী অ্যালগরিদমের কোনো স্থান সমাজে থাকা উচিত নয়।

অস্ট্রেলিয়া গত বছর ঘোষণা দেয় যে, তারা একটি আইন প্রণয়ন করছে যা অনুযায়ী ১৬ বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে ইউটিউব শুরুতে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়েছিল, কারণ এটি শিক্ষার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু বুধবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ঘোষণা দেন, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইউটিউবে অ্যাকাউন্ট রাখা যাবে না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং এক্সসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও তারা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমরা চাই অস্ট্রেলিয়ান অভিভাবক ও পরিবারেরা নিশ্চিত থাকুক যে আমরা তাদের পাশে আছি।

অ্যালবানিজ স্বীকার করে বলেন, এই বয়সসীমা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। যেমনটি মদপানের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। ‘তবুও এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। 

ইউটিউবের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বুধবারের ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে একটি ধাক্কাস্বরূপ ইউ-টার্ন।