গাজার মানুষকে খাবার দেয়া নিশ্চিত করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই দিন, গাজায় বিমানের মাধ্যমে খাবার ফেলেছে ছয়টি দেশ। এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১০৬ জন। তাদের মধ্যে শনিবার সকাল থেকে প্রাণ গেছে ২১ জনের। হামলায় ৯০ ত্রাণপ্রার্থী আহতও হয়েছেন। এছাড়া অনাহারে মারা গেছে দুই শিশুসহ আরো তিন জন।
ঘটনাস্থল গাজার একটি আশ্রয়স্থল। সেখানে মারাত্মক অপুষ্টির শিকার আট বছরের এক ফিলিস্তিনি শিশু। তার ওজন মাত্র ১১ কেজি। শিশুটি ভালোমতো চোখে দেখে না, কথা বলতে পারে না এমনকি দাড়াতেও পারে না ঠিকঠাক। অনাহারে মুমূর্ষু মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে অসহায় দিন কাটছে মায়ের।
শিশুটির মা বলেন, কিছুদিন আগেই ওর বোনটা কিনডির সমস্যা নিয়ে মারা গেছে। এখন ওকে মরতে দেখছি না খেয়ে। ওর শরীরে প্রোটিনের মারাত্মক অভাব। যুদ্ধ বন্ধ না হলে ওকে বাঁচানো যাবে না।
গাজায় এখন বোমা হামলার পাশাপাশি অনাহারেও প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের কর্মকর্তা ক্যারোলিন উইলম্যান সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইল গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালাচ্ছে। খাদ্য সরবরাহের সময় ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের উপর গুলি চলছে বলেও জানান তিনি।
এমন মানবেতর অবস্থায় উপত্যকাটিতে হেলিকপ্টার থেকে ত্রাণ ফেলেছে ছয়টি দেশ। ১২৬টি প্যাকেজ ফেলেছে ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, মিসর, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই দিন, গাজায় ১১ ট্রাক ত্রাণ পাঠিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।
এরই মধ্যে, গাজার ক্ষুধার্ত মানুষকে ত্রাণ পাঠানোর বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আমার উইটকফের সাথে কথা হয়েছে। তিনি অনেকের সাথে বেশ কিছু বিষয়ে বৈঠক করেছেন, তবে প্রাথমিক বৈঠকটি ছিল ত্রাণ নিয়ে। এ মুহূর্তে গাজার মানুষকে খাবার দেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেটা আমরা আসলে করতে চাই।
উইটকফের গাজা সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই মনে করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূতের এ সফরে পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, যুদ্ধবিরতির আশা তারা ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, উইটকফের এ সফর গাজাবাসীর জন্য তেমন কোন পরিবর্তনই আনবে না।
উইটকফ এমন এক সময়ে এই সফর করছেন যখন বিশ্বব্যাপী অ্যাডভোকেসি গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনে ইসরাইলি বাহিনীকে মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রগুলোর কাছে ‘নিয়মিত রক্তপাত’ ঘটানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, গত ২৭ মে থেকে গাজায় সাহায্যপ্রার্থী কমপক্ষে ১ হাজার ৩শ’ ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে জুলাই মাসের শেষ দুই দিনে কমপক্ষে ১০৫ জন নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের কার্যালয় জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই ইসরাইলি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত হয়েছে। জিএইচএফ সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ৮শ’ ৫৯ জন এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থার কনভয় কর্তৃক ব্যবহৃত রুটে ৫শ’ ১৪ জন নিহত হয়েছে।