মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় 

আগামী ডিসেম্বর মধ্যে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দেশটির জান্তা সরকার। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঠিকই দায়িত্বে থাকছেন মিন অং হ্লাইং। এছাড়া দেশটির শীর্ষ পর্যায়েও হচ্ছে না রদবদল ফলে গণতান্ত্রিক নিয়ম কতটা মানা হবে এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জান্তা সরকারের চার বছরের সামরিক শাসন ও দীর্ঘ দমন-পীড়নের পর যখন এলো নির্বাচনের ঘোষণা তখনো খুশি নয় বিরোধীরা, আপত্তি তুলছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। কারণ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে থেকে নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হবে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা বাহিনী ছয় হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। বিচার ছাড়া আটক করা হয়েছে বিশ হাজারের বেশি মানুষকে। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। দেশটির মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলার টালমাটাল পরিস্থিতিতে নির্বাণ অনুষ্ঠিত হলে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নিয়ে আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহল। 

আসন্ন নির্বাচনকে প্রহসন বলেছে পশ্চিমা বিশ্ব। অনেকেই একে দেখছেন জেনারেলদের ক্ষমতা পাকাপাকি করার কৌশল হিসেবে। এরই মধ্যে ডিসেম্বরের নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের দাবি সেনা প্রধানের ছত্রছায়ায় থাকা অন্তর্বর্তী সরকারে প্রাধান্য পাবে সামরিক বাহিনীর অনুগত প্রার্থীরা। ফলে নির্বাচনে দঁড়াতে অনেকেই দেখাচ্ছেন অনাগ্রহ। 

মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথুসনের মতে ক্ষমতা হস্তান্তর বাণিজ্যিক রূপান্তর মাত্র। এতে দেশটির অভ্যন্তরে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এছাড়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সাথে তীব্র লড়াইয়ের প্রভাবও প্রকট মিয়ানমারে। 

গত বছর ভোটার তালিকা তৈরির জন্য একটি জনশুমারি করে জান্তা সরকার। এতে ৩৩০ টি টাউনশিপের মাঝে ১৪৫ টির তালিকা শেষ করা হয়। এতে দেশটির বহু অঞ্চলে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয় । 

এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ৬৩ টি টাউনশিপে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতে সামরিক শাসন জারি করেছে জান্তা সরকার। বর্তমানে ৬৩টি টাউনশিপের মাঝে ৪৬টি আছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। বাকি ১৬ টির মাঝে শুধু শহর অঞ্চল জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। কিছু এলাকার দখল নিতে এখনো চলছে সংঘর্ষ।

দেশটির ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে২৬৭ টাউনশিপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে জান্তার। বিশ্লেষকদের মতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হাতছাড়া অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারলে ওইসব এলাকায় নির্বাচন করা সম্ভব হবে না জান্তা সরকারের।