গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গেলো ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯২ জন ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ৫৬ ত্রাণ প্রত্যাশীও। তীব্র অনাহারে থাকা ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় রোববারও বিমান থেকে ত্রাণ ফেলেছে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ।
এদিকে অনাহারে থাকা আরও এক ইসরাইলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরাইলকে দুর্বল করতেই এসব ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ক্ষুধার্ত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ নিচ্ছেন। সেখানকার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে এক বস্তা আটার জন্য চলে যেতে পারে নিজের জীবনও। গাজার মোরাগ এলাকায় ত্রাণের জন্য গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে খালি হাতে ফিরে আসেন অনেকে।

এক বাসিন্দা বলেন, আমি আটার বস্তা আসার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমাদের মাত্র বলা হলো আটা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের বাড়িতে চলে যেতে বলেছে। আমাদের কোনো উপায় নেই, ফিরে যেতে হয়েছে।
এছাড়া বাজারে সবকিছুর দাম অনেক চওড়া হওয়ায় কিছুই কিনে খেতে পারছেন না গাজাবাসী। তাই ত্রাণই একমাত্র আশা।
এটি একটি অপরাধ, ভয়াবহ। এটি জীবন মৃত্যুর বিষয়। পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়ংকর। ত্রাণকেন্দ্রের আশেপাশে ইসরাইলিদের ট্যাংক থেকে সারাদিনই গোলাগুলি হচ্ছে। মানুষ একবেলার খাবারের জন্য গুলি খেয়ে মরছে।

গাজার বাসিন্দাদের পাশাপাশি অনাহারে মুমূর্ষু অবস্থা উপত্যকাটিতে হামাসের কাছে জিম্মি থাকা ইসরাইলিদের। রোববার আরও এক ইসরাইলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস।
ওই জিম্মি বলেন, দয়া করে এই যুদ্ধ বন্ধ করুন। আমি না খেয়ে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছি এবং মনে হচ্ছে অনাহারেই মারা যাবো। আমি নিশ্চিত যে আমার মতোই অন্য জিম্মিরাও না খেয়ে আছে। গাজাবাসীর জন্য না হলেও, অন্তত আমাদের জন্য এই যুদ্ধ বন্ধ করে ত্রাণ পাঠান। আমাদের খাবার আর পানি পাঠান।
তবে এ ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বলেছেন, এসব ভিডিও প্রকাশ করে ইসরাইলের জনগণের মনোবল নষ্ট করার চেষ্টা করছে হামাস।
নেতানিয়াহু বলেন, তারা আমাদের দুর্বল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা ভেঙে পড়বো না। বরং জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হচ্ছে। গাজা আর কোনো অবস্থাতেই ইসরাইলের জন্য হুমকির কারণ হবে না।
এদিকে, গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ টানা কয়েকদিন ধরে খাবার না পেয়েই দিন পার করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু-বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা চরমে পৌঁছেছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হতে পারে।
রাশিয়ায় ৫০০ বছর পর জেগে উঠলো ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝড়ের আভাস