ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইউরোপের জনজীবন, সমানতালে চড়ছে পারদ

দক্ষিণ ইউরোপে ভয়াবহ দাবানল এবং তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস, তুরস্ক, আলবেনিয়া, মন্টিনেগ্রো ও ক্রোয়েশিয়ার একাধিক এলাকায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে জারি করা হয়েছে রেড হিট অ্যালার্ট। দাবানলে পুড়ছে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডাও। 

এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ইউরোপের দাবানল। আগুনে পুড়ছে তুরস্ক, পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও বলকান অঞ্চলে জারি করা হয়েছে রেড হিট অ্যালার্ট। 

তীব্র তাপদাহে পুড়ছে স্পেন। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সেভিয়া ও কর্দোভায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। মাদ্রিদের কাছে ত্রেস কান্তোস এলাকায় ঘোড়াশাল কর্মী দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। 

সেখানে ঘণ্টায় ৭০ কিমি বেগে বয়ে যাওয়া বাতাস দাবানলকে আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। দাবানল নেভাতে ১ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

স্পেনের মতই পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলেও একই তাপমাত্রার পূর্বাভাস রয়েছে। পর্তুগালে তিনটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। ট্রানকোসো অঞ্চলের আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নেভাতে ১ হাজার ৩০০ ফায়ারফাইটার ও ১৪টি বিমান কাজ করছে। 

ইতালিতে তীব্র গরমে এক শিশু মারা গেছে। রোম, মিলান ও ফ্লোরেন্সসহ অন্তত ১০ শহরে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। একই চিত্র ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকাজুড়েও। আগুনে পুড়ছে প্রায় ৪০ হাজার একর বনভূমি। ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় তাপ সতর্কতা জারি হয়েছে। 

গ্রিসে ১৫০টিরও বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। জাকিনথোস দ্বীপ ও পশ্চিম আচাইয়া অঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় কিছু এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমের চানাক্কালে প্রদেশের হাজার হাজার বাড়িঘর ও গাড়ি। নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে শতাধিক বাসিন্দাকে। আগুন নেভাতে কাজ করছে অন্তত ৭শ দমকল কর্মী। 

মন্টিনেগ্রোতে আগুন নেভাতে গিয়ে এক সেনা নিহত হয়েছেন। আলবেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও অন্যান্য বালকান দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের চতুর্থ তাপপ্রবাহে যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। লন্ডনে দুটি ঘাসের আগুনে ১৭ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

এদিকে, কানাডায় চলতি বছর ৭৩ লাখ ১৮ হাজার ৪২১ হেক্টর এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে। বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে ৪৭০টিরও বেশি দাবানল। এসবের দাবানলের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর জলবায়ু পরিবর্তনের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।