আকস্মিক তিব্বত সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

আকস্মিকভাবে তিব্বত সফর করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সেখানে দেয়া বক্তব্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতিগত ঐক্য ও উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তিব্বতকে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। 

বুধবার (২০ আগস্ট) লাসায় এক জনসভায় তিনি প্রায় ২০ হাজার মানুষের সামনে ভাষণ দেন।

জিনপিং তার ভাষণে বলেন, তিব্বতকে শাসন, স্থিতিশীল ও উন্নত করতে হলে প্রথম শর্ত হলো রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা, জাতিগত ঐক্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি। তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জনবল বিনিময় জোরদার করার কথা বলেন। এছাড়া, তিনি তিব্বতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সীমান্ত শক্তিশালী করার মতো চার বিষয়ে লক্ষ্য ঠিক করেন। 

বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিংয়ের এই সফরে দালাই লামার নাম উল্লেখ করা হয়নি। দালাই লামা ১৯৫৯ সালের ব্যর্থ বিদ্রোহের পর থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি বলেছেন যে তার উত্তরসূরি বাছাইয়ের অধিকার তার দফতরে, বেইজিংয়ের হাতে নয়।

চীন দাবি করে তাদের শাসনামলে তিব্বতিদের জীবনমান উন্নত হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করে, বেইজিং তিব্বতিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধীরে ধীরে মুছে দিচ্ছে। একই সঙ্গে, চীন তিব্বতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে, যা নিয়ে ভূরাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

এই বাঁধটি ইয়ালুং সাংপো নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে, যা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাঁধের মাধ্যমে চীন পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।