বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে একটি নতুন নেপালের সম্ভাবনা

নেপালকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করার পাশাপাশি জনগণকে দাস হিসেবে বিবেচনা করে আসা রাজনীতির এতদিনের কুশীলবদের চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন নেপালের তরুণ প্রজন্ম। ইতিহাসের প্রতিটি মোড়ে, একটি নতুন প্রজন্ম এসেছে যারা পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেয়। মঙ্গলবার নেপালের পরিবর্তনের নেতৃত্ব আবারও জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য উপযুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন হাড়বুড়ো সরকার দেশটিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা তরুণ বিক্ষোভকারীদের নির্মমভাবে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিজের তৈরি সরকারের পতন প্রত্যক্ষ করার পর ওলি তাড়াহুড়ো করে পদত্যাগ করেন। শুধু ওলিই নন, তার পুরোনো মিত্র শের বাহাদুর দেউবা বা পুষ্প কমল দহল কিংবা পুরোনো প্রজন্মের অন্য কেউ আর নতুন নেপালের অংশীদার নন।

নেপালি জনগণের আশা ও স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করার ওলি ও সাঙ্গপাঙ্গরা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাদের অপরাধ শুধু দেশ লুটপাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সুশাসনের দাবিতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাস্তায় নেমে আসা নিরীহ তরুণদের গুলি করে হত্যা করার পর নেপালি সমাজ নীরব থাকেনি। সোমবারের নৃশংসতার সাক্ষী দেশটি পরিবর্তনের পক্ষে জেগে উঠেছে। 

নেপালে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমেছে এবং দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলছে। প্রতিটি আন্দোলনেরই একটি উদ্দেশ্য ও গন্তব্য থাকে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা, নতুন পরিকল্পনা, একটি সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং নেতৃত্বের সাথে সংগতিপূর্ণ একটি নতুন পথে দেশকে পরিচালিত করার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজন এই নতুন নেতৃত্ব।

তরুণদের চূড়ান্ত ত্যাগ এবং নেপালি সমাজের সংকল্পকে সম্মান জানাতে একটি নতুন নেতৃত্বে হস্তক্ষেপমূলক পরিবর্তন আনতে হবে। এর জন্য, নেপালি সমাজের অপেক্ষা থাকার বিলাসিতা নেই। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তরুণরা এরিমধ্যে স্পষ্টভাবে বলেছেন, এসো বলেন, এই সংকট থেকে আমাদের রক্ষা করো। কিন্তু কে এই বলেন? তিনি আর কেউ নন, নেপালি তরুণদের নেতা হিসাবে পরিচিত কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ। 

১৯৯০ এবং ২০০৬ সালের পরিবর্তনের পরে সমসাময়িক আন্দোলনের নির্বাচিত নেতৃত্ব যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো তেমনি আজকের আন্দোলনকেও তার নিজস্ব নেতা বেছে নিতে হবে। 

এই আন্দোলন পুরোনো কাজকর্মের ধরনকে বদলে দিয়েছে। গত কয়েক দিনের নৃশংসতার পর, দেশকে শান্তি, সংলাপ এবং সহযোগিতার পথে পরিচালিত করতে হবে। এই ধরনের একটি রোডম্যাপ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং রাষ্ট্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করবে না। অবিলম্বে একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে দেশকে নতুন নির্বাচনের পথে নিয়ে যেতে হবে। 

এর জন্য, নতুন প্রজন্মের নেতা হিসেবে বলেন্দ্র শাহকে একটি তাৎক্ষণিক এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সংস্থা, বিরোধী দল এবং সাধারণ নেপালি জনগণকে অবশ্যই দেশের তরুণদের দাবি মেনে নিতে হবে এবং বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বকে সমর্থন করতে হবে।