নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, কে এই সুশীলা কার্কি?

নেপালের প্রথম নারী হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। প্রথম নারী হিসেবে তিনি দুইটি রেকর্ড গড়েছেন।

দেশটিতে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে, জেন-জি আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পৌডেল।

অন্যদিকে শপথ গ্রহণের পরই গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ নিয়েছেন সুশীলা কার্কি। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে সুপারিশ করেছেন তিনি। তার পরামর্শ মোতাবেক পার্লামেন্ট অবলুপ্ত করেন প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওদেল।

সুশীলার শপথ গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট, সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল এবং চলমান ‘জেন-জি বিপ্লব’ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একত্রে বৈঠক করেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শপথ নেওয়ার পর আবেগঘন এক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী কার্কির পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন ‘জেন-জি বিপ্লবের’ নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতা সুদান গুরুং।

এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কে এই সুশীলা কার্কি?

karki

নেপালে বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৬৫ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর, দেশটির ৭৫ বছরের গণতন্ত্রের ইতিহাসে, আনুষ্ঠানিক নিয়োগের মাধ্যমে, প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান) হলেন সুশীলা কার্কি।

এমন একটি সময় তিনি প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন, যখন দীর্ঘদিন ধরে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়নি এবং উচ্চ আদালত গঠনসহ প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছিল বিচার বিভাগ।

nepal-pm2

এছাড়াও, সুপ্রিম কোর্টে মামলার জট বেশি থাকা এবং বিচারকের কম সংখ্যা নিয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলো নেপালের বিচার বিভাগ।

এমন নানা কারণে সে সময় তাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিলো বলেও উল্লেখ করেছিলেন তার পূর্বসূরিরা। যদিও কিছু বিতর্ক ছাড়া, তার মেয়াদকাল নিয়ে খুব বেশি প্রশ্ন তোলেননি সাধারণ মানুষ।

কিন্তু এখন, অপ্রত্যাশিত ও অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে তিনিই দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করছেন।

নেপালের বিরাটনগরে জন্ম নেয়া ৭৩ বছর বয়সী এই নারী ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। এরপরই যোগ দেন আইন পেশায়।

বলা হয়, সেই সময়ে একজন নারীর পক্ষে আইন পড়া এবং আইন অনুশীলন করা অস্বাভাবিক ছিলো।

nepal-pm1

বিরাটনগর এবং ধরণে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয়ভাবে ওকালতি করার পর, তিনি সরাসরি বিচারক হিসেবে প্রবেশ করেন সুপ্রিম কোর্টে।

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাম প্রসাদ শ্রেষ্ঠা বলেছিলেন যে তিনি সুশীলা কার্কির সম্ভাবনা দেখেই তাকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে সুপারিশ করেছিলেন।

নেপালের কংগ্রেস নেতা এবং দেশটির সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী জেপি গুপ্তকে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পর একজন বিচারক হিসেবে আলোচনায় আসেন সুশীলা কার্কি।

বিবিসির সাথে আগের এক সাক্ষাৎকারে কার্কি বলেছিলেন যে, তিনি প্রায়শই তার বেঞ্চে দুর্নীতির মামলা শুনানি করেন।

এছাড়া ওই সময় একটি মামলা পুনর্বিবেচনার জন্য তৎকালীন কমিশন ফর দ্য ইনভেস্টিগেশন অফ অ্যাবিউজ অফ অথরিটি (সিআইএএ)-এর প্রধানের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সুশীলা কার্কি।

nepal-pm

পরবর্তীতে তিন বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, তাকে বাদ দিয়ে, লোকমান সিং কার্কিকে পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়।

লোকমান সিং কার্কির ওই মামলা পুনর্বিবেচনার জন্য পুনরুজ্জীবিত করতে সুশীলা কার্কির সিদ্ধান্ত সেই সময়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিলো। ওই সময় বৈষম্যের মাধ্যমে নারীর প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অভিযোগও আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।