শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়ার পর নেপাল। সবগুলো দেশই দেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে নেপালের সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলন সামাল দিতে না পারায় ‘রাষ্ট্রের’ ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনের পরিকল্পনা আগে থেকে জানা থাকলেও ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্র তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেন-জি আন্দোলনের পরিকল্পনা আগে থেকেই জানতো সরকার। তারপরও সঠিক নিরাপত্তা কৌশল তৈরি ও কার্যকর না করায় তা ঠেকাতে ব্যর্থ ওলি সরকার। সমন্বয়ের অভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কাঠমান্ডু প্রশাসন নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়। এটিকেই প্রথম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্বিতীয়ত, আন্দোলনে সরকারের অনেক দেরিতে সাড়া দেয়াকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। ব্যাপক প্রাণহানির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডাকেন। অথচ সেদিন সকালেই তিনি মাঠের পরিস্থিতি দেখার পরিবর্তে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ বিল নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
তৃতীয়ত, কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশে নেতৃত্ব শূন্যতা। আন্দোলনের আগে অবসর নেন কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশ অফিসের এআইজি টেক বাহাদুর তামাং। ফলে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছিল কাঠমান্ডু পুলিশ। এমন স্পর্শকাতর সময়ে পূর্ণাঙ্গ এআইজি না থাকায় নিরাপত্তা শৃঙ্খলে দুর্বলতা তৈরি হয়।
পাশাপাশি এর পেছনে অন্যতম একটি প্রধান কারণ হিসেবে তারা দায়ী করছেন- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির অবস্থানকে। জনগণের ক্ষোভ মোকাবেলা করা বা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো দূরে থাক, তিনি অস্থিরতার জন্য ‘বিরোধী শক্তিকে’ দায়ী করেন। পদত্যাগের আহ্বান এলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, যদিও পরবর্তী সময়ে চারদিকের চাপে পদ ছাড়তে বাধ্য হন।
এছাড়া, দুর্নীতির প্রতি তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভকেও এই আন্দোলন ঠেকাতে না পারার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, কেবল নিরাপত্তা দুর্বলতা নয়, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার, বড় কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি না করা ও বিভিন্ন অনিয়মের ফলে নেপালে তীব্র জনঅসন্তোষ তৈরি হয়। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখে সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়।