নেপালে জেন-জি আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর ধারণা করা হচ্ছিলো দেশটি বোধহয় আবারো রাজতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু, তরুণ প্রজন্মের চাওয়াকে সবার আগে রেখে সব জল্পনা কল্পনা ছাড়িয়ে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ঘোষণা করা হয় নির্বাচনের তারিখ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেদিন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের বিচক্ষণতা ও সাহসেই নেপালে রাজতন্ত্র ফেরেনি। জেন-জি নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজতন্ত্রকে ফিরিয়েছেন তিনি। এতে ক্ষমতা যায়নি সেনাশাসকদের হাতে। কিন্তু তারপরও কি কেটেছে দেশটির রাজনৈতিক সঙ্কট?
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে কাঠমান্ডুর সব বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানে যখন আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল, তখন মনে হচ্ছিলো নেপাল বোধহয় আবারও রাজতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে নেপাল। এমনকি রাজতন্ত্রপন্থীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আওয়াজও তুলেছিলেন। ছিলো দেশটির ভেতরে ও বাইরের অনেক শক্তির ষড়যন্ত্রও।
কিন্তু সেদিন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল সাহস ও বিচক্ষণতায় সামাল দিয়েছিলেন পরিস্থিতি। সেনাপ্রধানের কথা মতো প্রধানমন্ত্রী ওলি ইস্তফা দিলেও প্রেসিডেন্ট পৌডেল ছিলেন অবিচল। সেনাপ্রধান তাকে পদত্যাগ করতে বললেও তিনি শোনেননি। সে সময় তিনি পদত্যাগ করলে নেপালে ফিরতো রাজতন্ত্র অথবা দেশটির ক্ষমতা চলে যেতো সেনাশাসকদের হাতে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো এরপরও কি দেশটির রাজনৈতিক সঙ্কট কেটেছে?
নেপালের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বিক্ষোভের সময় দেশটির গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তম্ভই জ্বালিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু রাজকীয় প্রাসাদ নারায়ণহিতি ও জ্ঞানেন্দ্রর বাসভবন ছিলো একদম সুরক্ষিত। আর এ থেকে রাজতন্ত্রের আবারো ফিরে আসা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নেপালে জেন জি আন্দোলনের নেতারা জানায়, সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার সময়ে সেনাপ্রধান রাজতন্ত্রের সমর্থক দুর্গা প্রসাই, রবি লামিছানের দল আরএসপি এবং রাজতন্ত্রের সমর্থক আরেকটি দল আরসিপিকেও ডেকে নেন। এর পরই জেন জি’রা ভাবতে শুরু করে ক্ষমতা কোথায়, কার হাতে যাচ্ছে। এরপরই তারা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও সরকারের প্রধান হিসেবে সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব করে।
কিন্তু আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গড়ার সময়ে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে। বালেনই সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব করেছিলেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা এবং সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবিও তার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার পরে বেসামরিক সরকার গঠনের দায়িত্ব সেনাপ্রধানের ওপর নয়, প্রেসিডেন্টের ওপর ছিলো। কিন্তু বালেন শাহ প্রেসিডেন্টকে উপেক্ষা করায় বোঝা যায়, পর্দার আড়ালে অন্য কোনও খেলা চলছিলো।
এদিকে কার্কির নেপালের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হলেও এনিয়ে প্রশ্নও উঠছে। নেপালের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধিসভার সদস্য নন, এমন কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে গেলে প্রতিনিধিসভার সদস্য হওয়া আবশ্যক।
নেপালের তিনটি বড় রাজনৈতিক দল; নেপালি কংগ্রেস, কেপি অলির নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি এবং পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ডর নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি এই সংসদ ভেঙে দেয়া ও সুশীলা কার্কিকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানোর সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছে।
অন্যদিকে সুশীলা কার্কি ঘোষণা দিয়েছেন, ৫ মার্চ নির্বাচন হবে। কিন্তু নির্বাচন অনেকেই এখনও আশ্বস্ত হতে পারছেন না। বলা হচ্ছে, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতিতে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।