রাতভর টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায়। জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে আটজন। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার জেরে শহরের যানবাহন, রেল, মেট্রো ও ফ্লাইট চলাচলেও নেমে এসেছে বিপর্যয়।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মঙ্গলবারও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্গাপূজার আগে টানা বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
শারদীয় উৎসবের সময় এমন নজিরবিহীন বৃষ্টি আগে দেখেনি কলকাতাবাসী। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি মঙ্গলবারও থামেনি। আর এতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে কলকাতা শহরসহ আশপাশের এলাকায়। শহরের একাধিক জায়গায় রাতভর বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। আর এর জেরেই সৃষ্ট দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এরইমধ্যে কলকাতা শহরে অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। শহরের পরিস্থিতি পুনরায় ‘স্বাভাবিক’ হতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।
এদিকে জলাবদ্ধতায় শহরের যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উপকণ্ঠের রেল ও মেট্রো সেবাতেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। শহরের নিম্নাঞ্চলে বহু বসতবাড়িতে ঘরে পানি ঢুকে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেকে। বেশ কয়েকটি স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
জলাবদ্ধ রাস্তাঘাটের কারণে কলকাতা বিমানবন্দরগামী যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো ইতোমধ্যেই ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।
এদিন শহরের দক্ষিণ ও পূর্বাংশে বৃষ্টির প্রভাব ছিলো সবচেয়ে বেশি। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া কামদাহারিতে। সেখানে কয়েক ঘণ্টায় ৩৩২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলেই এই বৃষ্টি হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজা উৎসব শুরুর ঠিক আগে এ ধরনের প্রবল বর্ষণে কলকাতা জুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। টানা বৃষ্টিতে মাসব্যাপী শ্রমে তৈরি মণ্ডপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।