ইরানের পরমাণু কর্মসুচি নিয়ে সব সময়েই সন্দিহান পশ্চিমারা, যদিও তেহরান বলে আসছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। কিন্তু সন্দেহ আর আতঙ্কে তাড়িত হয়েছে ইসরাইলকে দিয়ে ইরানে সামরিক অভিযানও চালিয়েছে পশ্চিমারা। এবার তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পাঁয়তারা চলছে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আবারও জারি হতে যাচ্ছে- এমন প্রেক্ষাপটে পরমাণু বোমা তৈরিতে ইরানের মধ্যে চাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে কট্টরপন্থি সংসদ সদস্যরা আবারও দেশকে পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি জানিয়েছেন। ইসরাইলেরর সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই এমন আহবান এলো।
মাশহাদ শহরের এক কট্টরপন্থি এমপির নেতৃত্বে পার্লামেন্টের ৭০ জন সদস্য একটি চিঠিতে সই করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তন করা দরকার। তাদের দাবি, দাবি, ইসরাইল এখন ‘উন্মত্ততার চূড়ায় পৌঁছেছে’- আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে।
ইরান বহুদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, বোমা বানানোর জন্য নয়। তবে কট্টরপন্থীরা যুক্তি দিচ্ছেন, খামেনি প্রায় ২০ বছর আগে একটি ধর্মীয় ফতোয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধ করেছিলেন। তবে এতে অস্ত্র তৈরি বা মজুত রাখাকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি।
গত রোববার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ঘোষণা দিয়েছে- ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে।
ইউরোপের এই তিন দেশ ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির অংশীদার হলেও এখন তারা জাতিসংঘে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে ২০১৫ সালে যে সব জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়েছিল, তা আবার রোববারের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা হবে- যদি শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো সমঝোতা না হয়।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ও অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে। আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরান তাদের মজুত উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার ও হ্রাস করবে, এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হবে।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমারা নানা অজুহাত দিচ্ছে, এমনকি বলছে- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাকি ইরানের পুরো রাজনৈতিক কাঠামোকে প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু আরাঘচি জোর দিয়ে বলেছেন- তার পেছনে সরকারের পূর্ণ সমর্থন আছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলও রয়েছে।
আর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যেকোনো ‘পুনর্বহাল’ করা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার প্রস্তুতি আছে তেহরানের। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি আরও বলেন, স্ন্যাপব্যাক দিয়ে তারা পথ বন্ধ করতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মস্তিষ্ক ও চিন্তাধারা অন্য পথ খুলে দেয় বা নতুন পথ তৈরি করে। তারা আমাদের থামাতে পারবে না। তারা নাতাঞ্জ বা ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। কিন্তু তারা এটা বোঝে না যে নাতাঞ্জ মানুষই তৈরি করেছে। মানুষই আবার সেটি গড়ে তুলবে।
