নৃশংসতা ও ভয়াবহতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেলো লাতিনের কুখ্যাত মাদক কারবারিরা। তিন আর্জেন্টিাইন নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেই ক্ষান্ত থাকেন মাদক দস্যুরা। সেই ঘটনা লাইভে সরাসরি প্রচারও করেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে হতবিহ্বল আর্জেন্টিনার নাগরিকরা। পাশাপাশি মোমবাতি জ্বালিয়ে শোকও জানিয়েছে।
মাদক পাচারকারী দলের হাতে তিন নারী খুনের ঘটনায় বিচার চেয়ে রাজধানী বুয়েনস অ্যায়ার্সের রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। যেভাবে তিন তরুণীকে নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না বলে দাবি করে জড়িতদের বিচার চাইছে আর্জেন্টিনার বিক্ষোভকারীরা।
১৫ বছর বয়সী লারা গুতেরেজ এবং ২০ বছর বয়সী মোরেনা ভার্দি এবং ব্রেন্ডা দেল কাস্টিলোর নৃশংস হত্যাকাণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পুলিশের বিশ্বাস, একটি মাদক পাচারকারী চক্র এর জন্য দায়ী এবং অন্যান্য প্রতিপক্ষের জন্য সতর্কীকরণ হিসেবে এই জঘন্য অপরাধ প্রচার করা হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া বুলরিচের মতে, শুক্রবার পর্যন্ত তারা পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে; এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং দুইজন নারী। তবে ২০ বছর বয়সী পেরুর এক ব্যক্তিকে তারা দলটির নেতা বলে দাবি করেছে, তিনি এখনও পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
তদন্তকারীদের মতে, ১৯ সেপ্টেম্বর একটি পার্টিতে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের একটি ভ্যানে তোলা হয়েছিল। কিন্তু সেটি ছিল ‘গ্যাং কোড’ লঙ্ঘনের জন্য তিন নারীকে শাস্তি দেয়ার পরিকল্পনার অংশ, যা অন্যদের জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসছে।
পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরে বুধবার বুয়েনস অ্যায়ার্সে একটি বাড়ির উঠোন খুঁড়ে ২০ বছরের মরেনা ভার্দি, ব্রেন্ডা ডেল ক্যাস্টিলো ও ১৫ বছর বয়সি লারা গুতেরেজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর্জেন্টিনার মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, আঙুল কেটে, নখ উপড়ে, বেধড়ক মারধর করা হয় তিন তরুণীকে। মার খেতে খেতে তারা যেন কার্যত সংজ্ঞাহীন, সেই সময়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
নিহতদের পরিবারের লোকেরা জানান, খুনের আগে এমন পাশবিক অত্যাচার করা হয়, দেহগুলো ভালো করে শনাক্ত পর্যন্ত করা যায়নি। সূত্রের খবর, তিন তরুণী কোনোভাবে ওই চক্রের পূর্ব পরিচিত ছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিন তরুণী পার্টিতে যাচ্ছিলেন। একটি গাড়িতে ওঠেন তারা। পরে জানতে পারেন, তারা ফাঁদে পড়েছেন। এর পরেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় তিনজনের।