পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে ইরান নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ১০ বছর পর দেশটির উপর ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে জাতিসংঘ। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তারা আগেই জানতো এবং এর জন্য তারা প্রস্তুতও। রোববার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা শনিবার ইউরোপের স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।
ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি। ইরানকে ক্রমাগত পারমাণবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার অভাবের জন্য অভিযুক্ত করে এই তিন দেশ ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরু করে।

জুন মাসে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এক হয়ে ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালানোর পর, তেহরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন স্থগিত করে; যা ২০১৫ সালের চুক্তির শর্তাবলীর অধীনে একটি আইনি বাধ্যবাধকতা ছিলো।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত এই চুক্তির সমাপ্তি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা থেকে বিরত রাখাই ছিল ওই চুক্তির লক্ষ্য। যদিও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছে তেহরান।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত সপ্তাহে জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে জোর দিয়ে বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও ইচ্ছা নেই। তবে, রোববার তেহরানে একটি ইরানি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা যে পুনর্বহাল হবে, তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো তার দেশ।

নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালকে ‘অন্যায়, অন্যায্য এবং অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেছেন যা পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইসলামপন্থী জাতির সাথে পশ্চিমা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সন্ধিক্ষণ রচনা করা হলো। ইরানের পরমাণু ইস্যুর টেকসই সমাধান কেবল আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর ইরানকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। শনিবার তিন দেশ জানিয়েছে, তেহরানের অবিরাম পারমাণবিক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার অভাবের কারণে তাদের ‘শেষ উপায় হিসেবে’ এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, আমরা ইরানকে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা আরও বলে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল মানে কূটনীতির সমাপ্তি নয়। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে পুনর্বহাল করার পদক্ষেপ নেবে ইইউ ব্লক।
এদিকে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। শনিবার জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং কার্যকর করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি লিখে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালকে স্বীকৃতি দেয়া হলে তা একটি বড় ভুল হবে বলে জানিয়েছেন ল্যাভরভ।
কারুর ট্রাজেডির পেছনে ডিএমকে’র ষড়যন্ত্র দেখছে বিজয়ের দল
পদপিষ্টের কারণ সম্পর্কে যা বলছে তামিলনাড়ুর পুলিশ