১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার টানা বিমান হামলায় ইউক্রেনে চারজন নিহত এবং কমপক্ষে ৭০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বেশিরভাগ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো রাজধানী কিয়েভে এবং মৃত্যুর সবগুলো ঘটনা সেখানেই ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাত অঞ্চল লক্ষ্য করে প্রায় ৬০০টি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘটনাটি সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলো একটি। জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেন প্রতিশোধ নেবে।
তিনি বলেন, এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়া প্রমাণ করেছে তারা আক্রমণ চালিয়ে যেতে চায়। রাশিয়া বলেছে, তারা ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে আঘাত করেছে। কোন বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। কিয়েভ প্রতিক্রিয়া দেখালে মস্কো বসে থাকবে না।

রুশ হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, শতাধিক ড্রোন এবং মিসাইলের মাধ্যমে কিয়েভে ‘ম্যাসিভ এয়ার অ্যাটাক’ করেছে রাশিয়া। কিয়েভের পাশাপাশি জাপোরিঝিয়াসহ একাধিক এলাকায় আঘাত হেনেছে রুশ মিসাইল। এর জেরে ১৬ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে ইউক্রেন প্রশাসন সূত্রে।
এই হামলার পরে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে দেয়া পোস্টে আক্রমণ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। তিনি লিখেছেন, এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনের যাতে ভয় হয়, সেই ব্যবস্থা করা উচিত। তবেই এই অর্থহীন যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে।

কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে এই হামলার জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে বারবার কেঁপে উঠেছে কিয়েভ। মেয়র ভিটালি ক্লিটস্চকো জানিয়েছেন, কিয়েভের প্রায় ২০টি লোকেশনে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিভিলিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার, মেডিক্যাল ফেসিলিটি এবং কিন্ডারগার্টেনেও হামলা চলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর জেরে ১২ বছরের একটি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
ইউক্রেনীয়দের জন্য বিমান হামলা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় পর এ ধরনের হামলাগুলো বেশি হয়। এবার প্রথম সাইরেনটি শোনা যায় রাত দশটার পর। বিমানবিধ্বংসী গুলির শব্দ মাঝে মাঝে বিস্ফোরণের সাথে সাথে শোনা যাচ্ছিলো। শহরের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছিলো।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা ফেরালো জাতিসংঘ