গাজায় আবারও ত্রাণবাহী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা ফ্লোটিলার

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সর্বশেষ নৌযান ম্যারিনেটও আটক করেছে দখলদার ইসরাইল। পোল্যান্ডের পতাকাবাহী ওই নৌযানে আছেন ছয়জন ক্রু।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভোরে লাইভ ফুটেজে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌকাটি চলছে। তখনও নৌযানটি গাজার জলসীমা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে ছিলো। এসময় ইসরাইলি কমান্ডোরা জাহাজটিতে প্রবেশ করে এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ফ্লোটিলার একটি বাদে সকল জাহাজ আটকের দাবি করে ইসরাইল।

তবে এসবের মধ্যেই ফিলিস্তিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) গাজায় আরও ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। 

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইতালি ও ফ্রান্সের পতাকাবাহী দুটি নৌযান গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালির ওৎরান্তো বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর আরও ৯টি নৌযান যাত্রা শুরু করে। শিগগিরই এগুলো অগ্রবর্তী জাহাজগুলোর সাথে মিলিত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বহর হিসেবে যাত্রা করবে।

এফএফসি-এর বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন এই বহরের ১১টি নৌযানে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রু সদস্য রয়েছেন। 

এর আগে গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বন্দর থেকে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রীতে পূর্ণ ৫৫টি জাহাজ নিয়ে গাজার উদ্দেশে রওনা দেয় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। 

ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা-এই চার সংগঠনের জোট হলো এফএফসি।  

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় গণহত্যা শুরুর পর এ পর্যন্ত যত ত্রাণের বহর গাজায় পৌঁছেছে, সেগুলোর মধ্যে ফ্লোটিলার এই বহরটি সবচেয়ে বড়। 

গত আগস্ট মাসে গাজায় খাদ্য ও ওষুধসহ নৌযান পাঠানোর ঘোষণা দেয় এফএফসি জোট। এই মিশনের নাম দেওয়া হয় ‌‌‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা, বাংলাদেশের শহিদুল আলমসহ ৪৪টি দেশের ৫০০ জন নাগরিক এই মিশনে অংশ নেন।  

গত ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। কিন্তু গাজার সমুদ্রসীমার কাছে পৌঁছানোর পরপরই সবগুলো ত্রাণবাহী জাহাজকে আটক করে দখলদার ইসরাইলের নৌবাহিনী। আটক নৌযান, ক্রু এবং আরোহীদের নিয়ে যাওয়া হয় ইসরাইলের বন্দরে।

এদিকে গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনী হানা দেয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশর সব স্তরের মানুষ। ফ্লোটিলায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে, তুরস্ক, ইতালি, স্পেন, জার্মানির বার্লিন, গ্রিস এবং আর্জেন্টিনায়। এর মধ্যেই নতুন ত্রাণ বহর পাঠানোর ঘোষণা দিলো এফএফসি।