রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সহসাই থামছে না, ট্রাম্পের গলদঘর্ম

ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যকার বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, আদৌ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হবে কিনা। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, পরিস্থিতি বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, অবিলম্বে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ট্রাম্পের সাথে সবশেষ বৈঠকে টমাহক মিসাইল চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। এটি ব্যবহার করে রাশিয়ার গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে কিয়েভ, এমন প্রত্যাশা ছিল তার। ট্রাম্প শুরুতে কিছুটা আগ্রহ দেখালেও পরে ফিরিয়ে দেন জেলেনস্কিকে। বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তায় ন্যাটোরই এগিয়ে আসা উচিত।

এরপর, হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে দুই সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। শিগগিরি দুপক্ষের মধ্যে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।

গত বছর নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে তাঁর ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টা’ লাগবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর প্রায় এক বছর হতে চললেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়ছেন। ট্রাম্প দুই পক্ষকে তাদের অবস্থান থেকে সরাতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের প্রায় ৭৮ শতাংশ ভূমি রাশিয়ার হাতে চলে গেছে। আপাতত যেমন আছে, তেমনই থাকুক। পরে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারবে।

ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতারা সমর্থন জানালেও যুদ্ধ ‘স্থগিত’ করার প্রস্তাবে রাজি হয়নি রাশিয়া। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং যুদ্ধের সময় রাশিয়া যেসব অঞ্চল দখল করেছে, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে।

আর এসব দাবি মানতে নারাজ ইউক্রেন।  বৈঠকের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।