রাশিয়ার প্রধান তেল শিল্পের ওপর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম রাতারাতি পাঁচ শতাংশ বেড়ে গেছে। এই নতুন নিষেধাজ্ঞার পর ভারতও রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে তেল আমদানি ‘বড় পরিসরে কমানো বা পুরোপুরি বন্ধ করার’ পরিকল্পনা করছে।
এদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে তেলের দাম বিশ্ব বাজারে আরো বাড়তে পারে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়ার প্রধান দুটি তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকওয়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়েছে। বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৫ দশমিক ৯৮ ডলার হয়েছে, যা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন ও ভারতের পরিশোধনাগারগুলোকে বিকল্প খুঁজতে হবে। নয়তো পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে তারা। তবে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ট্রাম্প তেমন কোন সুবিধা করতে পারবে না বা তার উদ্দেশ্য সফল হবে না বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলো তেলের সরবরাহ ও চাহিদায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। গত সাড়ে তিন বছরে রাশিয়ার ওপর যত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার কোনোটিই উৎপাদন বা রাজস্বে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
তেল খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় তেল পরিশোধনাগারগুলো রুশ তেল আমদানি ব্যাপকভাবে কমাতে পারে। ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি রিফাইনার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সম্পূর্ণভাবে রুশ তেল কেনা বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। রসনেফটের সঙ্গে তাদের বড় আকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও স্থগিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রিলায়েন্সের এক মুখপাত্র বলেন, রুশ তেল আমদানির পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া চলছে এবং কোম্পানিটি ভারতের সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবে।
একইভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামও তাদের বাণিজ্যিক নথি পর্যালোচনা করছে, যাতে রসনেফট বা লুকওয়েল থেকে সরাসরি কোনও সরবরাহ না আসে।
তবে ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে সরবরাহ উদ্বৃত্তের আশঙ্কায় তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা সীমিত থাকে। ইউবিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নিকট ভবিষ্যতে ব্যারেলপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইআইএ জানিয়েছে, দেশটিতে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত কমেছে, যা পরিশোধন কার্যক্রম ও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দিল্লিতে প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টি হবে ২৯ অক্টোবর