যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, ইসলামাবাদকে কাবুলের হুঁশিয়ারি

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় শেষ হয়েছে। এই ব্যর্থতার জন্য ইসলামাবাদের আন্তরিকতাকে দুষছে কাবুল। তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা ব্যর্থ হবার পর, তালেবান সরকার এক কঠোর বিবৃতিতে পাকিস্তানের সমালোচনা করেছে এবং দেশটিকে আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হিসাবে অভিযুক্ত করেছে।

শনিবার জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের সই বিবৃতিতে তালেবান সরকার তুরস্ক ও কাতারকে তাদের মধ্যস্থতা করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেও পাকিস্তানের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে করেছে। আফগান প্রতিনিধিরা ৬ ও ৭ নভেম্বরের আলোচনায় ‘সৎ বিশ্বাস’ ও ‘যথাযথ কর্তৃত্ব’ নিয়ে অংশ নিয়েছিল, এই আশায় যে পাকিস্তান এবার গুরুত্ব সহকারে ও গঠনমূলকভাবে আলোচনা করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান আরও একবার দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসহযোগিতামূলক মনোভাব দেখাল। তারা নিজেদের নিরাপত্তার সব দায়ভার আফগান সরকারের ওপর চাপাতে চেয়েছে, কিন্তু তারা আফগানিদের নিরাপত্তা বা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক নয়। তালেবান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কেবল তাদের দায়িত্ব এবং সক্ষমতার সীমার মধ্যে সহযোগিতা করবে।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং পাকিস্তানের মধ্যে সমস্যাটি নতুন নয়, এটি ২০০২ সাল থেকেই বিদ্যমান।

মুজাহিদ আরও দাবি করেন, আফগান আমিরাত টিটিপি এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুবিধা করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল এবং এই প্রক্রিয়াটি মূলত সফলও হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এটি বানচাল করে দেয়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যেই এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা আফগানিস্তানে একটি সার্বভৌম কর্তৃত্বকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চায় না।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ নিশ্চিত করেছেন, তৃতীয় দফার আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই এক অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চতুর্থ দফা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের উপজাতি, সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রী নূরুল্লাহ নূরী পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আফগানদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। তিনি আসিফকে তাঁর দেশের প্রযুক্তির বিষয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হতে সতর্ক করে দিয়ে ঘোষণা করেন, যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আফগানিস্তানের প্রবীণ ও যুবকরা একসঙ্গে লড়াই করার জন্য উঠে দাঁড়াবে।

ইস্তাম্বুলের এই আলোচনা সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আয়োজিত হলেও, এটি উল্টো পাকিস্তানের দ্বৈততা এবং আফগান-পাক সম্পর্কের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে।

এই অচলাবস্থা দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে প্রকাশ্য সংঘাতের কাছাকাছি ঠেলে দিয়েছে। সীমান্তে আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও, আফগানিস্তান আশঙ্কা করছে যে পাকিস্তান আবারও বিনা প্ররোচনায় সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাতে পারে, যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ড্রোন ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তালেবান তাদের নীতিগত অবস্থানে অটল থেকে পুনরায় জানিয়েছে, তারা তাদের মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না, আবার কোনো বিদেশি শক্তিকেও তাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করতে দেবে না।