মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে হওয়া ৭৪তম আসরের গ্র্যান্ড ফাইনাল শেষে চলতি বছরের ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন মেক্সিকান সুন্দরী ফাতিমা বশ।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) তার মাথায় বিজয়ীর মুকুট ওঠার পরপরই বিতর্কে জর্জরিত এবারের আসরের সমাপ্তি ঘটে।

গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরে শুরু হয় মিস ইউনিভার্স ২০২৫–এর ফাইনাল পর্ব। যেখানে কয়েকটি পর্ব পেরিয়ে মিস ইউনিভার্সের ফাইনালে উঠে আসেন পাঁচটি দেশের প্রতিনিধি—মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ড, মিস ইউনিভার্স ফিলিপাইন, মিস ইউনিভার্স ভেনেজুয়েলা, মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো ও মিস ইউনিভার্স আইভরিকোস্ট।

Miss-Universe-Fatima1

এরপর বিচারকেরা সব প্রতিযোগীকে দুটি করে প্রশ্ন করেন। সে দুই প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত করা হয় মিস ইউনিভার্স ২০২৫।

মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন (এমইউও) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের পুরস্কারের সংখ্যা ঘোষণা না করলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নতুন বিশ্বসুন্দরীর জন্য গত বছরের বিজয়ী ভিক্টোরিয়া কেয়ারের মতো প্রায় একই ধরনের পুরস্কার প্যাকেজ থাকছে।

Miss-Universe-Fatima3

জানা গেছে, পুরস্কারের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেখানে বিশ্বজয়ী বিভিন্ন ভ্রমণ খরচ, সাক্ষাৎকার, এবং বিভিন্ন প্রজেক্ট বাবদ প্রাথমিক তহবিল এবং মাসিক আয় পান।

অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের বিজয়ীর পুরস্কারের তালিকায় আড়াই লক্ষ মার্কিন ডলার রয়েছে; অর্থাৎ, ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেশি।

এছাড়াও ধার্য করা হয় মাসিক বেতন। আর অঙ্ক প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৫৫ লাখ টাকার বেশি।

প্রাইজ হিসেবে ভ্রমণ ও সাঁজ সজ্জার জন্য আলাদা করে খরচ রাখা হয়। যা দিয়ে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ, ফ্যাশন এবং প্রসাধন খরচ করতে পারবেন বিজয়ী। আর এসব খবর বহন করবে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।

Miss-Universe-Fatima4

এছাড়া মুকুটজয়ী ফাতিমার মাথায় উঠেছে পাঁচ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দামের যে মুকুট। যা শুধু রাজকীয় উৎসবের গৌরবই নয়, বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ও দুর্লভ মুকুট হিসেবেও পরিচিত।

মেক্সিকোর তাবাস্কো অঙ্গরাজ্যের সান্তিয়াগো দে তেয়াপায় জন্ম ফাতিমার। তিনি মেক্সিকোতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ইতালির মিলান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টেও থেকেছেন কিছুদিন।

Miss-Universe-Fatima2

নিজের দুর্বলতাকেই তিনি শক্তিতে পরিণত করেছেন। স্কুলজীবনে ডিসলেক্সিয়া ও এডিএইচডির কারণে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কথা তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে তাবাস্কোতে ‘ফ্লোর ডি ওরো’ খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পথচলা।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ইতিহাস গড়েন তাবাস্কো থেকে প্রথম নারী হিসেবে ‘মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো’ খেতাব জিতে। এই জয়ের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলেন ফাতিমা- ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৯০ হাজারের বেশি; আর টিকটকে ৬ লাখ ৯০ হাজার।