নামিবিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ওশানা অঞ্চলের ওমপুঞ্জা নির্বাচনী এলাকার একজন স্থানীয় রাজনীতিবিদ অ্যাডলফ হিটলার উনোনা। বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত স্বৈরশাসক, হলোকাস্টের হোতা এবং সাবেক জার্মান চ্যান্সেলরের নামের সাথে মিল থাকা সত্ত্বেও, তিনি তার নিজ দেশে নির্বাচনে বারবার জয়ী হয়ে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিচ্ছেন।
তিনি দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা পিপল'স অর্গানাইজেশন দলের সদস্য এবং ২০০৪ সাল থেকে এই আসনটি ধরে রেখেছেন। ৫৯ বছর বয়সী অ্যাডলফ হিটলার ইউনোনা বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রাক্তন নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সাথে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
৫৯ বছর বয়সী উনোনা তার বিতর্কিত নাম এবং নাৎসি নেতার মধ্যে কোনো সংযোগের কথা বারবার অস্বীকার করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেছেন, আমার বাবা আমাকে এই নামটি দিয়েছেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে আমার মধ্যে হিটলারের চরিত্র আছে বা আমি নাৎসি নেতা হিটলারের মতো।
২০২০ সালে জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উনোনা জানান, তার বাবা সম্ভবত বুঝতে পারেননি হিটলারের কর্মকাণ্ড আসলে কেমন ছিলো। তিনি বলেন, শিশুকালে আমি এটিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি নাম হিসেবে দেখতাম। কেবল বড় হওয়ার পরই আমি বুঝতে পারি, এই লোকটি পুরো পৃথিবী জয় করতে চেয়েছিলো। এসব কিছুর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
জানা গেছে উনোনাকে তার স্ত্রী ‘অ্যাডলফ’ বলে ডাকেন, কিন্তু জনসমক্ষে তিনি সাধারণত তার নামের মধ্য থেকে ‘হিটলার’ অংশটি এড়িয়ে চলেন। তবে, তিনি নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা রাখেন না। তিনি বলেন, এটি আমার সব সরকারি নথিতে রয়েছে। এখন আর এর জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে।
২০২০ সালের স্থানীয় নির্বাচনে ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর উনোনা স্থানীয় দৈনিক দ্য নামিবিয়ান’কে জানান, তিনি কুখ্যাত অ্যাডলফ হিটলারের সাথে যে কোনো প্রকার সংযোগ এড়িয়ে চলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তার নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার কোনো পছন্দ ছিল না।
উল্লেখ্য, নামিবিয়া এক সময় জার্মানির একটি উপনিবেশ ছিল। ফলে হিটলারের মতো নাম এখনও দেশটিতে প্রচলিত। ২০২০ সালে উনোনা’র এলাকা অঞ্চল ওশানায় একটি গাড়ির পেছনের জানালায় ‘অ্যাডলফ হিটলার’ লেখা এবং একটি নাৎসি স্বস্তিকা চিহ্ন দেখা গিয়েছিলো। তবে, এই রাজনীতিক দাবি করেন যে, এর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
উনোনার নির্বাচনী সাফল্য এটাই প্রমাণ করে যে, তার এলাকার ভোটাররা বিতর্কিত নামের চেয়েও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন।