পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগারে জীবিত আছেন কিনা, সেই প্রমাণ সরকারের কাছে দাবি করেছেন তার ছেলে কাসিম খান। গেলো এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিবার, আইনজীবী ও দলীয় কর্মীদের সাথে তাঁকে দেখা করতে না দেয়ার পর এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরিমধ্যে কারাকর্তৃপক্ষের এমন আচরণে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পিটিআই।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে কাসিম খান সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, আমরা ইমরান খানের জীবনের প্রমাণ চাই।
৭৩ বছর বয়সি সাবেক এই ক্রিকেটার-রাজনীতিবিদ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে একাধিক মামলায় বন্দি আছেন। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে সম্পূর্ণ নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যেখানে কোনো আলো নেই।
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে তার তিন বোন, পিটিআই কর্মী এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি গত কয়েক দিন ধরে আদিয়ালা জেলের বাইরে অবস্থান করছেন। তারা শেহবাজ শরিফ সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছেন যাতে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
কাসিম খান তার পোস্টে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমার বাবা ৮৪৫ দিন ধরে গ্রেপ্তার। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে সম্পূর্ণ নির্জনতার মধ্যে রাখা হয়েছে। সাক্ষাতের জন্য আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা পরও তার বোনদের দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়নি। কোনো ফোনকল, কোনো বৈঠক হয়নি এবং জীবনের কোনো প্রমাণ নেই। আমার এবং আমার ভাইয়ের সাথে বাবার কোনো যোগাযোগ নেই।
কাসিম আরও দাবি করেন, ইমরান খানকে ব্ল্যাকআউট’ করে রাখার বিষয়টি কোনো নিরাপত্তা প্রোটোকলের মধ্যে পড়ে না; বরং এটি তার বাবার শারীরিক অবস্থা লুকানোর এবং পরিবারকে তার নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে না দেয়ার একটি সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পতি প্রচেষ্টা।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আমার বাবার নিরাপত্তার জন্য এবং এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার প্রতিটি পরিণতির জন্য পাকিস্তান সরকার এবং এর পরিচালনাকারীরা আইনগত, নৈতিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা এবং প্রতিটি গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে জরুরিভাবে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ইমরান খানের বোন আলীমা খান শুক্রবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আদিয়ালা জেলের সুপারিনটেনডেন্ট এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার পিটিশন দায়ের করেছেন। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইকোর্ট ২৪ মার্চের আদেশে সপ্তাহে দু’বার খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি পুনর্বহাল করেছিলেন। অন্যদিকে, পিটিআই দলও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সরকার তাঁর বোনদের দেখা করার অনুমতি না দিলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হবে।